গফরগাঁও প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গফরগাও উপজেলা পাগলায় থানা মেহেদী হাসান রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন খানসহ সাত আসামি এখনও গ্রেপ্তার হননি। এর মধ্যে ইয়াসিনসহ ছয় আসামি উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেননি। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় মামলার বাদী ও নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ১৭ মার্চ রাতে২০২৫ইং সুতার চাপুর এলাকার পল্টন মোড়ে মেহেদী হাসান রাকিবের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ইয়াসিন খানসহ আসামিরা রামদা, লোহার রড, হকিস্টিক ও হাতুড়ি নিয়ে তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় রাকিব গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চেপে ধরে ভারী ইট দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় পাগলা থানায় ইয়াসিন খানকে প্রধান আসামী করে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ইয়াসিন খান, মোফাজ্জল হোসেন খান, নজরুল শেখ, জাহিদুল ইসলাম, মন্তাজ আলী ও বেলাল বেপারি—এই ছয়জন ২০২৫ সালের মে-জুনে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। কিন্তু বাদীপক্ষের দাবি, জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। হত্যা মামলার আসামি ইয়াসিন বরং পাগলা থানা পুলিশের সাথে গোলাঘরে বসে গ্রাম্য বিচার সালিশ করছে।
অন্যদিকে মামলার পুলিশের নথিতে তিন আসামি—জিয়াউল ইসলাম মৃধা, পারভেজ শেখ ও মিজানুর রহমান শেখ ওরফে মিজো মিয়াকে গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ ১০ এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ছয়জন উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে আর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি, তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অপর একজনের বিরুদ্ধেও কোনো জামিনের তথ্য নেই; তাকেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।
মামলার বাদী মজিবুর রহমানের অভিযোগ, ইয়াসিন খান এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রভাবের কারণেই অন্য পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন। তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন এবং জমি, মৎস্য খামার দখল, দূষিত বর্জ্য ফেলে মানুষের মৎস্য খামারের ক্ষতি সাধন, অন্যের জমির মাটি কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি ও মারধরসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন বাদী। মামলা তুলে নিতে তাকেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।
বাদীর অভিযোগ, শুরু থেকেই মামলাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিলেও অধিকসংখ্যক আসামির অজুহাতে পুলিশ প্রথমে মামলা রেকর্ড করেনি। পরে আসামির সংখ্যা কমিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয় বলে তার দাবি। তদন্তে এজাহার-বহির্ভূত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে এলেও তা উপেক্ষা করে শুধু এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে আদালতে নারাজি দিলে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী মজিবুর রহমান বলেন, “আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের কেউ কেউ জামিন নিয়ে আদালতে হাজির হয়নি। প্রধান আসামি ইয়াসিন প্রকাশ্যে ঘুরছে। তার কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।”
মামলাটি বর্তমানে পিবিআই ময়মনসিংহ তদন্ত করছে। বাদীপক্ষের দাবি, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে সব আসামিকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।পাগলা থানা পুলিশ বলছে মামলাটি ময়মনসিংহ জেলা পিনিআই তদন্তধীন থাকায় মেহেদী হাসান রাকিব হত্যা মামলার আসামি ইয়াসিন কে গ্রেফতার করতে পারছিনা।