মোঃ সারোয়ার হোসেন
২০২৪ সালের রক্তস্নাত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জনগণের এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট লাভ করে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবন শেষে দেশে ফিরে এসে দল ও দেশের হাল ধরেন জিয়া পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ৩ দশকেরও বেশি সময় পর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন।
তার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে অভূতপূর্ব সাফল্য প্রদর্শন করেছে। দলীয় ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে দেশের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে তারেক রহমানের সরকার প্রভূত অগ্রগতি সাধন করেছে।
সরকারের মূল সাফল্য, নীতি ও সংস্কারসমূহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
যেমন ১. রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন ও সহনশীলতা
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসার রাজনীতি ও বৈরিতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেন। পরাজিত শক্তির প্রতি সহনশীলতা এবং জাতীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি নজিরবিহীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রথম দিন থেকেই আপসহীন ভূমিকা পালন করছে।২. ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ও জনপ্রতিনিধিদের जवाबদিহিতা
সরকার গঠনের প্রথম দিনেই সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, সরকারিভাবে সংসদ সদস্যরা কোনো জমি এবং শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
৩. সংস্কারমুখী দূরদর্শী বাজেট ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে চটজলদি বা হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকার ধীরস্থির ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারেক রহমানের সরকার মোট ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে, যেখানে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ও কর জাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে কর্মসংমুখী করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
এতদিন বাংলাদেশের অর্থনীতি এককভাবে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি চামড়াজাত পণ্য, জুতো ও খেলনা প্রস্তুতকারী শিল্পের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে উৎসাহিত করতে বিশেষ আর্থিক ও কাঠামোগত প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, যা দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করছে। ৫. স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে সাংবিধানিক সংস্কার (৩১ দফার আলোকে)
ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক ৩১ দফার আলোকে কিছু যুগান্তকারী সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্টকরণ: দেশে কোনো ব্যক্তি পরপর দুই টার্ম বা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: দেশের আইনসভাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য আনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৬. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক রূপান্তর
নতুন সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর নীতি গ্রহণ করেছে: