কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাজারে ডিমের দাম বাড়ার অজুহাত পেলেই লাফিয়ে বাড়ে মুরগির ফিডের (খাবার) দাম। কিন্তু ডিমের দাম যখন কমে যায়, তখন ফিডের দাম আর এক পয়সাও কমে না। ফিড কোম্পানিগুলোর এমন একপেশে নীতি এবং বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ও দানাপাটুলী ইউনিয়নের শত শত প্রান্তিক খামারি আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে।
সরেজমিনে কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নে গিয়ে কথা হয় প্রান্তিক খামারি বরকত মিয়ার সঙ্গে। তার ছোট খামারটিতে মুরগি রয়েছে ১ হাজার ১০০টি। খামারটি টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন তার আড়াই বস্তা ফিডের প্রয়োজন হয়। তিনি জানান, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বাজারে ফিডের দাম বস্তাপ্রতি ২২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন তাকে শুধু ফিড বাবদই অতিরিক্ত ৫৬২ টাকা গুনতে হচ্ছে।
দানাপাটুলী ইউনিয়নের হাওরের দিকে তাকালে চোখে পড়ে সারি সারি মুরগির খামার। কিন্তু সেখানেও এখন বিরাজ করছে চরম হতাশা। ফিডের দাম আর বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে এখানকার খামারিদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
খামারি চাঁন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে ডিমের দাম বাড়ার সাথে সাথেই ফিড কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ডিমের দাম যখন কমে, তখন ফিডের দাম আর কমে না। এটা তো আমাদের গলা কাটার ফন্দি! এর ওপর বিদ্যুতের ডাবল বিল আমাদের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির কথা জানান খামারি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “গত পাঁচ মাস আগেও বিদ্যুৎ বিল আসত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এখন সেটা সাত থেকে আট হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর সারাদিন হাওরে কারেন্ট থাকে না। গরমে মুরগি মরছে, ডিমের উৎপাদনও অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।”
এলাকার আরেক খামারি মারুফ আক্ষেপ করে বলেন, “হাওরের এই খামারগুলোই আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল ছিল। এখন ব্যাংক আর এনজিওর ঋণের কিস্তি শোধ করব নাকি বাড়তি দামে মুরগির ফিড কিনব, কোনো দিশা পাচ্ছি না। আমরা এখন রীতিমতো পথে বসার উপক্রম হয়েছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের আমিষের চাহিদা মেটানো এই পোলট্রি খাতকে বাঁচাতে এবং প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে ফিডের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া হাওর এলাকার এই সম্ভাবনাময় খাতটি অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।