গফরগাঁও প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা এলাকায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে থানা পুলিশের কথিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার কারণে এলাকায় প্রভাবশালী কয়েকজন মাদক কারবারি প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমনকি তাদের পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষেও বসে গল্প-গুজব করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মলমল গ্রামের সরকার বাড়ির টুটুল, একই বাড়ির আধাম এবং পাগলা পশ্চিমপাড়ার আজাদ এলাকায় মাদক কারবারের অন্যতম প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা বড় পরিসরে মাদক সরবরাহ করেন এবং আশপাশের এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ তাদের কাছ থেকেই মাদক সংগ্রহ করে।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পাগলা থানা পুলিশ চিহ্নিত মাদক কারবারি দিগল বাঁক গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আকরাম (৩৫), রিফাত (৩০) ও রাজু (২৭)-কে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের খবর আগেই পেয়ে তারা পালিয়ে যান। রাজুর বাড়িতে পুলিশ যায়নি বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযানের পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন যে পুলিশ তাদের ধরবে না এবং থানা পুলিশের সঙ্গে তাদের ‘সুসম্পর্ক’ রয়েছে। এমনকি পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন কথাও তারা বলে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযানের পর দিগল বাঁকের অভিযুক্ত রাজু মামলা থেকে রক্ষা পেতে তার বিধবা মায়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। পরে টাকা না পেয়ে তার মাকে মারধর এবং বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দিগল বাঁকের ওই তিনজন মূলত মলমল ও পাগলা এলাকার কথিত প্রভাবশালী পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাদক সংগ্রহ করেন। ফলে পাইকারি সরবরাহকারীদের ‘শেল্টার’ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তারা এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক কারবারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী টুটুল, আধাম ও আজাদের থানা পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি থানায় বিভিন্ন বিচার-সালিশেও তাদের প্রভাব দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পান না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও টুটুল, আধাম ও আজাদ কোন অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় এলাকায় বেশ প্রভাব বিস্তার করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের তৎপরতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। টুটুল পুলিশের সোর্স হিসেবেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
মাদকের বিস্তার বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজির কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ বা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় এনে সত্যতা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে টুটুল, আধাম, আজাদ এবং দিগল বাঁকের আকরাম, রিফাত ও রাজুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাগলা থানার ওসি বলেন, মাদেকর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।