ওয়াসিম কামাল
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএম-এর সহায়তায় দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটযোগে আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ০৬:০০ ঘটিকায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ জন নারী, ১ জন শিশু এবং ১৫ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ অভিবাসী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিতভাবে বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতায় উল্লিখিত ১৭৪ জনকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। এছাড়া, গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থানরত অবশিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দূতাবাস সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মিতভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ গমনের চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের মৃত্যু, নিখোঁজ, জিম্মি বা আটক হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আটক অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর পরিবেশে বন্দী জীবনযাপন করতে হয়। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সকলকে দালাল ও মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে অনিয়মিত পথে বিদেশ গমনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানায়।