আমিনুল ইসলাম রিপন :
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়নের দাবি জানান।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন, সাবেক সভাপতি ছাইদুজ্জামান মোস্তুফা, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামির হোসেন সাকী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বৈষম্য দূরীকরণ ও আত্মত্যাগের চেতনায় পরিচালিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ৭১৬ জন প্রার্থীর মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা একদিনেই সম্পন্ন করা হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে কীভাবে সম্ভব হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া রাত প্রায় ১০টার দিকে ভাইভা শেষ হওয়ার পর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রস্তুত এত কম সময়ে কীভাবে সম্পন্ন হলো, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল-আমিনের শ্বশুরবাড়ি উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামে। তাদের দাবি, ওই গ্রামের একই ওয়ার্ড থেকে ছয়জনকে তথ্যসংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যদিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তারা এ ঘটনাকে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ উল্লেখ করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতারের নেতৃত্বে গঠিত ভাইভা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউনিয়নভিত্তিক পৃথক কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষায় তথ্যসংগ্রহকারী পদে ৬২৬ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৯০ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরে প্রাথমিকভাবে পাঁচজন সুপারভাইজার ও ৫৮ জন তথ্যসংগ্রহকারীকে নির্বাচিত করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল-আমিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে