1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সালিশে শিশুর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ; কুলিয়ারচরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করেছে প্রশাসন ভাদ্রের প্রথম সকাল: বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮১ তম জন্মবার্ষিকী আজ চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার স্ট্যান্ডরিলিজ আদেশের পরও বহাল তবিয়তে থাকা গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের খুটির জোর কোথায়? গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম প্রকাশিত সংবাদ এ-র প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনব্যাপী এনডিডি-বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু
শিরোনাম
সালিশে শিশুর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ; কুলিয়ারচরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করেছে প্রশাসন ভাদ্রের প্রথম সকাল: বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮১ তম জন্মবার্ষিকী আজ চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার স্ট্যান্ডরিলিজ আদেশের পরও বহাল তবিয়তে থাকা গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের খুটির জোর কোথায়? গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম প্রকাশিত সংবাদ এ-র প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনব্যাপী এনডিডি-বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু

ভাদ্রের প্রথম সকাল: বর্ষার ভেজা পথ পেরিয়ে শরতের আগমন

  • প্রকাশ কাল শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়েছে

| রেহানা ফেরদৌসী

বর্ষার শেষ প্রহর পেরিয়ে আজ বাংলা পঞ্জিকার পাতায় উঠবে ভাদ্রের প্রথম দিন। ঋতুচক্রের নিয়মে শুরু হবে শরৎ। প্রকৃতির এই পরিবর্তন অবশ্য ক্যালেন্ডারের পাতায় একদিনে ঘটে না। বর্ষার মেঘ, বৃষ্টির জল, সিক্ত মাটি আর ঘন সবুজের বুক চিরেই শরৎ ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতির জানান দেয়। আকাশের নীল একটু একটু করে গাঢ় হয়, মেঘের ভাঁজে আসে শুভ্রতার আভাস, বাতাসের চলনে বদলে যায় ঋতুর ভাষা।
ভাদ্র তাই এক অর্থে দুই ঋতুর সীমানায় দাঁড়ানো একটি মাস। বর্ষার বিদায়ী সুর তখনও শোনা যায়, আবার শরতের আগমনী বাঁশিও বেজে ওঠে। কখনো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, কখনো রৌদ্রের ঝিলিক, আবার হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় পথঘাট। এই অনিশ্চয়তা ভাদ্রের স্বভাব; তার সৌন্দর্যও যেন এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই।
ভোরের ভাদ্র অন্যরকম কোমল। রাতের বৃষ্টির পর মাটির বুক থেকে উঠে আসে সোঁদা গন্ধ। পাতার ডগায় জমে থাকা জলকণা সকালের আলোয় ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করে। কোথাও কোথাও শিউলির শুভ্র পাপড়ি জানান দিতে শুরু করে শরতের আগমন। গ্রামবাংলার উঠোনে ফুল কুড়ানোর ব্যস্ততা, দূরের পাখির ডাক আর হালকা বাতাস মিলে তৈরি করে এক শান্ত সকাল। শহরেও ভোরের আকাশে চোখ রাখলে বোঝা যায়—বর্ষার ভার কিছুটা হালকা হয়েছে।
সূর্য ওপরে উঠলে শরতের আরেক রূপ প্রকাশ পায়। ভাদ্রের দুপুরকে একেবারে কোমল বলা যাবে না; রোদের তেজ যথেষ্ট থাকে, বাতাসে আর্দ্রতাও কমে না। কখনো নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আবার মুহূর্তেই মেঘের ঘনঘটা—প্রকৃতি যেন নিজের ক্যানভাসে বারবার ছবি বদলায়। নদী-নালা ও জলাভূমিতে বর্ষার সঞ্চিত জল তখনও প্রকৃতিকে সজীব রাখে। মাঠে আমন ধানের সবুজ, গাছপালার সতেজতা এবং জলভরা নিম্নভূমি বাংলার ভূদৃশ্যকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
এই সময় মানুষের জীবনযাপনেও প্রয়োজন কিছু সচেতনতা। গরম ও আর্দ্রতার কারণে হালকা, আরামদায়ক ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক স্বস্তি দেয়। সুতি পোশাক এ আবহাওয়ায় উপযোগী। বাইরে বের হলে ছাতা সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ ভাদ্রের আকাশের মন বোঝা কঠিন। পর্যাপ্ত পানি পান, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো পোশাক পরা দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যাভ্যাসেও চাই ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্য। তাজা শাকসবজি, মৌসুমি ফল, দেশীয় মাছ, ডাল ও সহজপাচ্য খাবার শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। ভাদ্রের আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে বাসি বা দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এড়ানো উচিত। নিরাপদ পানি পান এবং খাবার ঢেকে রাখার মতো সাধারণ সতর্কতাও এ সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
দুপুরের উত্তাপ পেরিয়ে বিকেল নামলেই ভাদ্র যেন তার সবচেয়ে চিত্রময় মুখটি খুলে বসে। খোলা মাঠে বাতাসের দোল, নদীর জলে সূর্যের শেষ আলো আর দূরের কাশবনের শুভ্রতা মিলে তৈরি হয় শরতের নিজস্ব দৃশ্যপট। কাশফুলের নরম দোলা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতেও এটি শরতের অন্যতম প্রতীক। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়, জল আর আকাশের মাঝখানে প্রকৃতি নিজেই একটি সাদা স্বপ্ন এঁকে দিয়েছে।
বিকেলের শেষে আসে সন্ধ্যা। দিনের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়। কৃষক মাঠ থেকে ফেরেন, গৃহস্থের উঠোনে আলো জ্বলে, শহরের ব্যস্ত মানুষও কিছুক্ষণের জন্য আকাশের দিকে তাকানোর অবকাশ পান। বর্ষার দীর্ঘ অস্থিরতার পর এই সন্ধ্যায় প্রকৃতি যেন একটু শান্ত হতে শেখায়।
আর শরতের রাত—তার নিজস্ব এক মায়া আছে। মেঘ সরে গেলে জ্যোৎস্না নেমে আসে উঠোনে, ছাদে, নদীর জলে। চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া দীর্ঘ হয়, দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। গরমের অস্থিরতা আর শীতের কনকনে অনুভূতি—দুটির মাঝামাঝি এক আরামদায়ক আবহ তৈরি হয়। যদিও ভাদ্রের আর্দ্রতা ও বৃষ্টির প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রতিটি রাত সমান নির্মল হয় না।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভাদ্র কিছু বাস্তব সতর্কতাও মনে করিয়ে দেয়। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ছাতা বা অন্যান্য সুরক্ষা নেওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দেওয়াও দরকার।
ভাদ্রের সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনও ধীরে ধীরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শরতের আগমন মানেই সামনে শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি। এখনো দূরে কোথাও ঢাকের আওয়াজ শোনা না গেলেও মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা, বাজারে নতুন পোশাকের আনাগোনা কিংবা ঘর গোছানোর আয়োজন জানান দেয়—উৎসব আসছে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মনও তখন নতুন আনন্দের অপেক্ষায় থাকে।
তবু ভাদ্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য কোনো একক দৃশ্যে নয়; তার সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভেতর। বর্ষার ঘন সবুজকে সঙ্গে নিয়ে সে এগিয়ে যায় শরতের নীল আকাশের দিকে। কখনো মেঘলা, কখনো রৌদ্রোজ্জ্বল, কখনো বৃষ্টিস্নাত—প্রতিটি মুহূর্তে তার আলাদা রূপ।
ভাদ্র আমাদের তাই শুধু একটি নতুন মাস উপহার দেয় না; দেয় একটু থামার উপলক্ষ। ব্যস্ততার বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার, নদীর স্রোত শোনার, কাশফুলের দোলায় চোখ রাখার এবং বুঝে নেওয়ার সুযোগ দেয়—প্রকৃতি কখনো একই থাকে না, অথচ তার প্রতিটি পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সৌন্দর্য।
কাল ভাদ্রের প্রথম সকাল। হয়তো আকাশে মেঘ থাকবে, হয়তো রোদ উঠবে, হয়তো হঠাৎ বৃষ্টিও নামবে। তবু সেই পরিবর্তনশীল আকাশের নিচেই শরৎ তার প্রথম পদচিহ্ন রাখবে।
শরৎ কোনো ঘোষণা দিয়ে আসে না—সে আসে বাতাসের স্বরে, আকাশের নীলে, কাশফুলের শুভ্রতায় এবং মানুষের মনে নতুন ঋতুর অদৃশ্য আনন্দ হয়ে।
স্বাগতম ভাদ্র।
স্বাগতম শরৎ।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST