মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, প্রটোকল ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফর এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজনের বিষয়টি এরই মধ্যে সরকারি ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। কটিয়াদীকে জাতীয় আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ বৃহত্তর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্ভাবনা তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে একাধিকবার অনুষ্ঠানস্থল ও উন্মুক্ত জলাশয় পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি। একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালা উদ্দিন টুক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল), জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন আকিল, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারন সম্পাদক আরিফুর হমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অনুষ্ঠানস্থল, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার উদ্দেশে রওনা করবেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চৌরাস্তা এলাকায় একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে কটিয়াদীর উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুর ১টায় মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা নির্বাচিত মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন এবার কটিয়াদীতে হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে এর গুরুত্বও বেড়েছে। এর আগে এ ধরনের জাতীয় আয়োজন রাজধানীকেন্দ্রিক থাকলেও এবার মৎস্য উৎপাদন ও উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চলে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্ভাবনা তুলে ধরতেই কটিয়াদীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
মৎস্যের জনপদে জাতীয় আয়োজন, হাওর, বিল, নদী-খাল ও উন্মুক্ত জলাশয়সমৃদ্ধ কটিয়াদীর অর্থনীতির সঙ্গে মৎস্য খাতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি পুকুর ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষেও এ অঞ্চলের মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কটিয়াদীতে আয়োজনকে স্থানীয় মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী ও উদ্যোক্তারা সম্ভাবনার নতুন দরজা হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কটিয়াদীর মৎস্য খাতের সম্ভাবনা, স্থানীয় মৎস্যচাষিদের সাফল্য এবং জলাশয়ভিত্তিক অর্থনীতির বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক মৎস্যচাষের প্রসার নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, কটিয়াদীর অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশে রওনা করবেন। সেখানে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউসে পৌঁছে কিছু সময় অবস্থানের পর বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান প্রদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মাঠে প্রশাসন, রাজনীতিতে সরব প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কটিয়াদীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুতি কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, প্রটোকল, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল ও অনুষ্ঠানস্থলের শৃঙ্খলা সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ১৬ আগস্টকে সামনে রেখে কটিয়াদী এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অপেক্ষায়। জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে একদিকে যেমন প্রশাসনের ব্যস্ততা বেড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।