নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পান্না আক্তার (২৮) নামের এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাগর মিয়ার (২৬) বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।
নিহত পান্না আক্তার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল মধ্যপাড়া এলাকার মৃত ছমির উদ্দিন দুলালের মেয়ে। অভিযুক্ত সাগর মিয়া একই উপজেলার কাতিয়ারচর এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাগর মিয়া মালয়েশিয়া থাকাকালীন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পান্না আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দীর্ঘ ২-৩ বছর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর সাগর সম্প্রতি দেশে ফিরে আসে। দেশে এসে সে পান্নাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে এবং বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পান্নার কাছে জমা দেয়।
গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সাগর অসৎ উদ্দেশ্যে যশোদল মধ্যপাড়ায় পান্নার ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে। পান্নার মা শামীমা আক্তার ও খালাতো বোন তানজিনা আক্তার ঘরে আলো ও কথাবার্তার শব্দ পেয়ে সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সে সময় সাগর সকালে পান্নাকে বিয়ে করবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করে এবং মান-সম্মানের ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পান্নাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সাগর।
পরদিন ৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে পান্নার মা তাকে ডাকতে গিয়ে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খুলে ঘরের আড়ার (ধর্ণা) সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পান্নার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মোঃ মহরম আলী রাজু অভিযোগ করেন, সাগর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বোনকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং পান্না বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করায় সাগর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাগর মিয়া পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে ঘাতক সাগরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের ভাইয়ের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পান্না হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পরম চত্বরে পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন,সানজিদা,স্বপ্না,তানজিলা, রাজু,শামীমা, রেখা,ফাতেমাসহ নিকট আত্বীয়রা।