1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কটিয়াদীর ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট পরিদর্শনে -এমপি জালাল হোসেনপুরে নিখোঁজের ৫ মাস পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার: গ্রেফতার -০৩ নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা উম্মুলক্বোরা মহিলা একাডেমিতে দুই শিক্ষার্থীর হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোতায়েন সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক চাই এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হোসেনপুর পৌরসভার ঢেকিয়া গ্রামের ভাঙা রাস্তা সংস্কারের দাবি কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল; ৪৫ জনের নামে থানায় মামলা
শিরোনাম
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কটিয়াদীর ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট পরিদর্শনে -এমপি জালাল হোসেনপুরে নিখোঁজের ৫ মাস পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার: গ্রেফতার -০৩ নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা উম্মুলক্বোরা মহিলা একাডেমিতে দুই শিক্ষার্থীর হিফজ সমাপনী ও দোয়া মাহফিল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি মোতায়েন সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক চাই এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হোসেনপুর পৌরসভার ঢেকিয়া গ্রামের ভাঙা রাস্তা সংস্কারের দাবি কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল; ৪৫ জনের নামে থানায় মামলা

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

  • প্রকাশ কাল শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ বার পড়েছে


​এমদাদুল হক
​বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই পাষণ্ডকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
​গ্রেফতারকৃতরা হলো— শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার কুশাইকুড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৪৪) এবং গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার মৃত কানা হামেদের ছেলে ও স্থানীয় বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া (৫২)।
​পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল টেস্ট করানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। তাই আপাতত গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে কড়া পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, আসামিদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মামলা আদালতে দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।
​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানীর কড়া নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন এসআই আল আমিন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। উত্তর খাইলকুর এলাকায় অভিযুক্তদের বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমানকে তার নিজ কক্ষ থেকেই গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কক্ষের সামনেই অবস্থান করছিল সহযোগী বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া, তাকেও সেখান থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আনিছুরের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম—গ্যাস লাইট এবং কিছুক্ষণ আগেই ব্যবহৃত ফয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়। আলামত দেখে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশের অভিযানের কিছুক্ষণ আগেই সেখানে ইয়াবা বা মাদকের আসর বসেছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের কাছে বা কক্ষে কোনো মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় পুলিশ মাদক আইনে মামলা রুজু করেনি। শুধুমাত্র ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
​মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী মোছা. মুন্নি আক্তার (৩৮) এবং প্রধান অভিযুক্ত আনিছুর রহমান উভয়েই উত্তর খাইলকুর এলাকায় ২নং আসামি জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়িতে আলাদা রুমে ভাড়া থাকতেন। প্রতিবেশীর সূত্র ধরে একপর্যায়ে আনিছুরের সাথে মুন্নির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আনিছুর বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে চরম মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।
​অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনিছুর ভুক্তভোগীর রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আনিছুর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ধর্ষক আনিছুরের পক্ষ নেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে স্পর্শকাতর জায়গায় বেধড়ক পেটায়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই নারীর মুখে ও ঠোঁটে মারাত্মক আঘাতের ফলে রক্ত ঝরে, পিঠ ও কোমরের নিচে কালশিটে দাগ পড়ে যায় এবং পায়ের আঙুল ও পাতায় কালচে জখমের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। এমনকি ঘটনাস্থলের মেঝেতেও রক্তের ছোপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নিলে হত্যার হুমকি দিয়ে আসামিরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
​গুরুতর আহত অবস্থায় মুন্নি আক্তার টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
​গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারীকে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য আগামী রবিবার তাকে হাসপাতালে মেডিকেল টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
​
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সমাজে এখনো একটি বড় সমস্যা। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST