পাকুন্দিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া গ্রামে প্রায় ৩৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
সম্পত্তি দখলমুক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. শফিক মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শফিক মিয়া বলেন, তাঁর বাবা আবদুল হাই দীর্ঘদিন আগে নিজ এলাকা ছেড়ে সিলেটে চলে যান। পরে পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। তবে পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া গ্রামে তাঁদের পৈতৃকসূত্রে পাওয়া প্রায় ৩৮ শতক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে বসতভিটা, পুকুর ও ফসলি জমি রয়েছে।
বাবা এলাকায় না থাকায় সম্পত্তিগুলো দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁর চাচাতো ভাই মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জুর ওপর দেওয়া হয়েছিল বলে জানান শফিক।
দীর্ঘদিন তিনি জমি দেখাশোনা করতেন এবং প্রথম দিকে জমি থেকে উৎপাদিত ফসল ও পুকুরের মাছের অর্ধেক পরিবারের সদস্যদের দিয়ে আসতেন।
শফিকের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে মুঞ্জুরুক হক মুঞ্জু ওই সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করতে শুরু করেন। তাঁর বাবা পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাইলে জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার পাশাপাশি লোকজন ও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু স্থানীয় বিএনপির নেতা এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১৭ নম্বর সদস্য। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যদের জমিজমা দখলের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন শফিক। প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় তাঁদের পক্ষে আদালতের রায়ও এসেছে। জমির মালিকানা প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। এরপরও তাঁরা বৈধ সম্পত্তির দখল বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন শফিক।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ৩৮ শতক সম্পত্তির মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, অবৈধ দখলে থাকা সম্পত্তি দখলমুক্ত করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া, দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া এবং আদালতের রায় ও বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে শফিক মিয়া বলেন, তাঁরা কোনো সংঘাতে যেতে চান না। আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে চান। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের জমিতে গেলেই মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু নারীদের লেলিয়ে দেন। নারীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু আমাদের জমিতে যাবেন না মর্মে আদালতে অঙ্গীকার করে এলেও বাস্তবে তিনি এ কথা রাখছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জুর বক্তব্য নিতে বাড়িতে গেলে মহিলারা তেড়ে আসেন। তাই তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।