নিজস্ব প্রতিবেদক:
সময় বয়ে যায় নদীর নিয়মে, কিন্তু কিছু স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরতম কোণে। দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিনের (৬৪৯ দিন) কর্মমুখর ও দায়িত্বশীল একটি যাত্রার পরম পূর্ণতায় আজ বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে। শুরু হয়েছিল যে পথচলা একবুক আশা আর নিষ্ঠাকে সম্বল করে, আজ সততা ও অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরম তৃপ্তি নিয়ে তার এক আবেগঘন কিন্তু সুন্দর সমাপ্তি ঘটল।
পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের উপত্যকা—রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (RHDC) চত্বরে কাটিয়ে দেওয়া প্রতিটি দিন ছিল কেবল দাপ্তরিক কাজের অংশ নয়, বরং পাহাড়ি-বাঙালির মেলবন্ধনে এক গভীর মানবিক বন্ধন গড়ার অভিজ্ঞতা। প্রথম দিনে দায়িত্ব গ্রহণের সেই থমথমে মুহূর্ত থেকে শুরু করে আজ বিদায়ের শেষ দিনটি পর্যন্ত, অর্পিত আমানতকে সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে আগলে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল। আর তাই, এই অর্জনের প্রতিটি ক্ষণে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে উচ্চারিত হচ্ছে অশেষ শুকরিয়া—আলহামদুলিল্লাহ!
এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথচলা কখনো একা সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। সহকর্মীদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা, প্রবীণদের স্নেহ ও দিকনির্দেশনা এবং পাহাড়ের সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ভালোবাসার উষ্ণতা ছিল চলার পথের মূল শক্তি। প্রশাসনিক কাজের বাইরেও রাঙামাটির মেহনতি মানুষের স্নেহ ও শ্রদ্ধা হৃদয়ের মণিকোঠায় জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে জমা থাকবে চিরকাল। এই যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনম্র শ্রদ্ধা।
বিদায় মানেই তো নতুন কোনো শুরুর বার্তা। দায়িত্বের ব্যাটন আজ তুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন পর্ষদের হাতে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন গঠিত পরিষদকে জানাই অন্তরের অন্তস্তল থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা। আশা করি, নবীন ও প্রবীণের অভিজ্ঞতায় এই পাহাড় ঘেরা অঞ্চল সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
একজন সাধারণ সেবক হিসেবে কাজের ক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও পাহাড়ের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকবে অবিনশ্বর। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।