নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেবিদ্বারে দাবীকৃত ৪ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ফার্মেসি তালাবদ্ধ; ২ চাঁদাবাজ আটকের ১ দিন পর জামিন কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ফার্মেসীর মালিকের নিকট দাবীকৃত চাঁদার ৪ লক্ষ টাকা না পেয়ে ফার্মেসী বন্ধ করে দিয়েছে শরীফ ও সুমন নামে দুই যুবক। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে কিংবা চাঁদার টাকা না দিয়ে দোকান খোলার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকদের জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। পুলিশ তাদের রোববার (২৩ আগস্ট) গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন।জেলে পাঠানোর একদিন পর অর্থাৎ সোমবার (২৪ আগস্ট) জামিনে পাওয়ার সংবাদ পাওয়াগেছে। জামিনে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। গত ২১ আগস্ট সকাল পৌনে ১০ টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার সমবায় টাওয়ারে ‘দি দেবিদ্বার স্কোয়ার হাসপাতাল’র নিচে “দেবিদ্বার লাজফার্মা”তে এ ঘটনা ঘটে। ‘দেবিদ্বার লাজফার্মা’ মালিক মোসাঃ শামীমা আক্তার আঁখি ওই ঘটনায় ২৩ আগস্ট দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই চাঁদাবাজ মো. শরীফ ও রেজাউল করিম শামিমকে গ্রেফতার করে রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করে। আটককৃতরা হলেন, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর চৌরাস্তার পাশের মৃত মনু মেম্বারের ছেলে মো. শরীফ (৩৫) ও মৃত: সফিকুল ইসলামের ছেলে রেজাউল করিম সুমন (৪০)। মামলার বাদী মোসাঃ শামীমা আক্তার আঁখি (৩৮), সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামের পান্ডব সরকার বাড়ির মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে এবং দেবিদ্বার গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী। মামলার বাদী মোসাঃ শামীমা আক্তার আঁখি আক্তার বলেন, আমি ২০২২ সালে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার সমবায় টাওয়ারে ‘দি দেবিদ্বর স্কোয়ার হাসপাতাল’র নিচে অগ্রীম টাকা প্রদানসহ ভাড়ায় “দেবিদ্বার লাজফার্মা” নামে একটি ফার্মেসি চালু করি। সম্প্রতি মো. শরীফ ও রেজাউল করিম সুমন (৪৫) এসে দোকানের কাগজপত্র দেখতে চায়। ওদের কাগজপত্র না দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে জীবননাশের হুমকি দেয়। গত ১২ আগস্ট অভিযুক্তরা পুন:রায় এসে আমার ফার্মেসীর কর্মচারীদের মারধর করে বের করে দেয়, ফার্মেসিও ভাংচুরের চেষ্টা করে। পরে তালা লাগিয়ে চলে যায়। আমি স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ফার্মেসির তালা ভেঙ্গে ব্যাবসা শুরু করি। গত ২১ আগষ্ট তাদের দাবীকৃত ৪ লক্ষ টাকা না দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেনা বলে দোকান কর্মচারীদের মারধর করে আবারো তালা লাগিয়ে দেয়। এবার বলে যায় ৪ লক্ষ টাকাও দিতে হবে, দোকানও ছেড়ে চলে যেতে হবে, এবং দাবীকৃত ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধই একমাত্র সমাধান। অন্যথায় এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিলে কিংবা বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের লোকদের মারধর ও জীবন নাশের হুমকী দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে গত ২৩ আগস্ট থানায় মামলা করি এবং আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে ফার্মেসী খুলে চালু করি। দুপুরে শুনতে পাই ওই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা জামিন পেয়ে গেছে। এ সংবাদ শোনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আটককৃতরা ছাত্রদল পরিচয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিল। ফার্মেসীর মালিক মোসাঃ শামীমা আক্তার আঁখি (৩৮), সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামের পান্ডব সরকার বাড়ির ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি দেবিদ্বার গ্রামের আবুল কাসেম ওমানীর ছেলে মাসুদ রানার স্ত্রী।এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহ জামান মুন্সী এবং বর্তমান সভাপতি শুভ হাজারী জানান, ওরা ছাত্রদলের পরিচয় দিলেও ছাত্রদলের পূর্বের এবং বর্তমান কমিটির কোন পদপদবীতে ছিলনা এবং নাই। এ ব্যপারে দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফার্মেসী মালিক মোসাঃ শামীমা আক্তার আঁখির দায়েরকৃত চাঁদাবাজের মামলায় ২ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানোর একদিন পরই জামিন পাওয়ার সংবাদ পেয়েছি। ওরা ফার্মেসীর মালিককে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবীর টাকা পরিশোধসহ ফার্মেসী ছেড়ে দেয়ারও হুমকী দিয়েছিল।