তাড়াইল প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়াই অনেক চালক অটোরিকশা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এরই মধ্যে আজ তাড়াইলে একটি গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা চালকদের একটি অংশ যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। আবার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের প্রবেশমুখে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, যাত্রী ওঠানোর জন্য কিছু চালক চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ব্রেক করেন কিংবা রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে দেন। এতে পেছনে থাকা যানবাহনকে হঠাৎ গতি কমাতে হয়। কখনো কখনো বিপরীত দিকের যানবাহনের চলাচলেও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা।
আজকের গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনাটি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে দুর্ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সেকান্দরনগর নয়াপাড়ার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, “অটোরিকশা প্রয়োজনীয় বাহন। কিন্তু যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া এবং রাস্তার ওপর একসঙ্গে অনেক অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজট তৈরি হয়। ব্যস্ত সময়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অটোরিকশা তাড়াইলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। তাই এই পরিবহন বন্ধ নয়; বরং চালকদের প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই জরুরি।
সচেতন মহলের দাবি, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গাড়ি দাঁড়ানো নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সড়ক আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অটোরিকশা মানুষের সহজ যাতায়াতের মাধ্যম হলেও অনিয়ম ও অসচেতনতার কারণে সেটিই যেন দুর্ঘটনা ও যানজটের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়—এখন সেটিই তাড়াইলবাসীর প্রত্যাশা।