1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জোর স্বাবলম্বী প্রতিটি পরিবার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে নিকলীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আলোচনা সভা কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যার বিচার দাবিতে লাশের খাটিয়া কাঁদে নিয়ে বিক্ষোভ পরিকল্পিত নগরায়ণে গুরুত্বারোপ: প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মাটির মা ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ জেলা কমিটি গঠন কেন্দুয়ায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ কুলিয়ারচরে আলোচিত কুখ্যাত ছিনতাই কারী ইমন সহ চার আসামী গ্রেফতার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ ইসলামপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, এমপি”র গাড়ি ভাঙচুর
শিরোনাম
কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জোর স্বাবলম্বী প্রতিটি পরিবার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে নিকলীতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আলোচনা সভা কুলিয়ারচরে জুয়েল হত্যার বিচার দাবিতে লাশের খাটিয়া কাঁদে নিয়ে বিক্ষোভ পরিকল্পিত নগরায়ণে গুরুত্বারোপ: প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মাটির মা ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ জেলা কমিটি গঠন কেন্দুয়ায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ কুলিয়ারচরে আলোচিত কুখ্যাত ছিনতাই কারী ইমন সহ চার আসামী গ্রেফতার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ ইসলামপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, এমপি”র গাড়ি ভাঙচুর

স্বাবলম্বী প্রতিটি পরিবার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে

  • প্রকাশ কাল রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়েছে

: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কয়েকটি বিষয় বারবার সামনে আসে—প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, দায়িত্বশীল যুবসমাজ গড়ে তোলা। এসব লক্ষ্য কোনো একক ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ করতে।একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার জনগণ। জনগণ যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, শিক্ষিত হয় এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়, তবে সেই রাষ্ট্র উন্নয়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে দারিদ্র্য, বৈষম্য, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক বিভাজন উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেয়। তাই উন্নয়নের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।স্বাবলম্বী পরিবার গঠনের অর্থ কেবল আয় বৃদ্ধি নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে প্রতিটি পরিবারের সদস্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ পায়। কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়ন—এসব খাত পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধারণ মানুষের আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। কৃষির আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যনিরাপত্তা যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি গ্রামের মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে। একই সঙ্গে গ্রামে ক্ষুদ্র শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণও স্বাবলম্বী পরিবার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে নারীরা শুধু নিজেদের নয়, পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা যায়, নারীর আয় বৃদ্ধি পেলে পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।অন্যদিকে দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। দুর্নীতির কারণে সরকারি সম্পদের অপচয় হয়, জনগণের আস্থা কমে যায় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। সরকারি ক্রয়, নিয়োগ, সেবা প্রদান এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতির সুযোগ কমানো সম্ভব।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারেও সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠে মানুষের মূল্যবোধ থেকে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে সততা, দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিক চেতনা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের সমাজ আরও সুস্থ ও সুশাসনভিত্তিক হতে পারে।গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহনশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে উঠতে হবে। মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, তবে সেই মতপার্থক্য যেন সংঘাতের পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়, সেটিই কাম্য।জাতীয় উন্নয়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভক্তি অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়। একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য নীতির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।যুবসমাজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া গেলে তারা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু দক্ষতার ঘাটতি, বেকারত্ব এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষাজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ নাগরিক যেমন কর্মক্ষেত্রে সফল হন, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও দায়িত্ব পালন করেন। উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। সব শিক্ষার্থী সরকারি চাকরি পাবেন না বা তা সম্ভবও নয়। তাই উদ্ভাবনী চিন্তা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় তরুণদের উৎসাহিত করতে হবে। সহজ অর্থায়ন, পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ এই ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সময় ও ব্যয় কমে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আইনগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও উন্নয়নের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়ন যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃ ও শিশুসুরক্ষা, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন জনগণের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। একইভাবে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করে।একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আইন মেনে চলা, কর প্রদান, সামাজিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ—এসবই দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়। রাষ্ট্র ও নাগরিক একে অপরের পরিপূরক।সবশেষে বলা যায়, প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং আধুনিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ তৈরি করা—এসব লক্ষ্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এগুলোর কোনো একটি অর্জিত হলেও অন্যগুলো উপেক্ষিত থাকলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ঐক্য এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণ।সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, তাহলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জন আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে।

☞বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST