বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে ১৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মানবিক প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত নাগরিকরা বুরাক এয়ারের ফ্লাইট নং UZ222 যোগে আজ বুধবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ০৬:০০ ঘটিকায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসংকুল পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১৮ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংকালে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন। তিনি জানান, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসন করতে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের দেশে ফিরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার এবং ভবিষ্যতে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে অন্য কেউ একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকরা তাদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করায় দূতাবাস ও আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তারা দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এবং সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, লিবিয়ায় আটক এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের দ্রুততম সময়ে দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য দূতাবাস লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।