নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলায় হারেছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১১:২০ মিনিটে উপজেলার চারিতলা গ্রামে। এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির ভাই মোঃ হারুন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা/এজাহার দায়ের করেছেন।
বিরোধের পটভূমি
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সেচ পাম্পের ইজারা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিয়ামতপুর বাজার বনিক সমিতি কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, সেচ পাম্পের খরচ ও লভ্যাংশ বাদীপক্ষ ৬ আনা এবং আসামিপক্ষ ১০ আনা হিসেবে বণ্টন করবে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সেচ পাম্পটি এককভাবে দখলে নেয়। বাদীপক্ষ এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
হামলার বিবরণ
ঘটনার দিন সকাল ১১:২০ মিনিটে আসামিরা রামদা, বল্লম, লোহার রড, হেমার ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চারিতলা গ্রামের ১৪ নম্বর সাক্ষী মোঃ সৈয়দ উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সৈয়দ উদ্দিনকে ধাওয়া করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে ঘরে ঢুকলে চিৎকার শুনে হারেছ মিয়া এগিয়ে আসেন।
অভিযোগ মতে, ৩ নম্বর আসামি কাছম আলী লোহার রড দিয়ে হারেছের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি তাকে চেপে ধরে এবং ১ ও ২ নম্বর আসামি লোহার রড ও হেমার দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে আসামিগণ বুকে পা দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।
এ সময় তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরও অন্তত ১৭ জন হামলাকারীদের রামদা, বল্লম ও রডের আঘাতে গুরুতর রক্তাত ও হাড়ভাঙা জখম হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
মোঃ শফিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ এনায়েত হোসেন, মোঃ আসাদ উল্লাহ, মোঃ শহীদ, মোঃ লিমন, মুনতাজ, মোঃ উজ্জ্বল, মোঃ শিবলু, মোছাঃ বেদেনা আক্তার, মোঃ আকরাম হোসাইন, মোছাঃ হোসনা আক্তারসহ অনেকে।
বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট
হামলা চালিয়ে আসামিরা মোঃ সৈয়দ উদ্দিন, নাজমুল ও আবুল খায়েরের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া ভুক্তভোগী মোনতাজের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসহ এক নারীর গলা থেকে আড়াই ভরি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
হাসপাতালে মৃত্যু ও পরবর্তী পদক্ষেপ
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর মধ্যে জখমী হারেছ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন (১৬ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৩:৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলে সেদিনই তার দাফন সম্পন্ন হয়।