মোবারক হোসেন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ. হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও মো. রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম (মুছা), উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ উদ্দিন নান্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, পৌর যুবদলের আহবায়ক মো. মাসুদ রানা, সদস্য সচিব মো. মোখলেছুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম আহবায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন নাজিম সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ওই সময়ের সিপাহি ও জনতার ভূমিকা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জাতীয় সংহতির নানা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের চেতনা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতে হবে।
সভায় স্থানীয় রাজনীতির সাংগঠনিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ করে।