মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা। এসময় উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে ইলেকট্রোফিশিং, কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং জলাশয়ে অবৈধ বাঁধ ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জের উদ্যোগে কটিয়াদী পৌরসভার স্বনির্ভর বাজার থেকে কুমারঘাতি ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত জলাশয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ, প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং অবৈধ উপায়ে মাছ নিধন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। অভিযান চলাকালে জলাশয়ে পেতে রাখা ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব জাল এমনভাবে তৈরি, যা পানিতে থাকা ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা ও ডিম নির্বিচারে আটকে ফেলে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। অভিযান শেষে জব্দকৃত সব জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল, কারেন্ট জাল এবং ইলেকট্রোফিশিংয়ের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন এসব অবৈধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে দেশীয় মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। মৎস্য বিভাগ জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়কে অবৈধ দখল, বাঁধ নির্মাণ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ রক্ষা, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণের লক্ষ্যে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল, কারেন্ট জাল এবং ইলেকট্রোফিশিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, রেণু ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধ্বংস হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে, যাতে সবাই মিলে আমাদের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপস করবে না। যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে বা ইলেকট্রোফিশিংয়ের মাধ্যমে উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাকৃতিক জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। তাই অবৈধ জাল ব্যবহার বা মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।