হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অসময়ের হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, ধান শাকসবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা বাগান ও বোরো ধান জমিন, ভূট্রা ক্ষেত ও পানের বরজ । এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হলেও এ সংকট মুহূর্তে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লকের কৃষিকর্মকর্তাদের কোন হদিস মিলছে না।তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।
জানাযায়,গত মঙ্গলবার (২৪মার্চ) রাতে উপজেলার জিনারী, সিদলা, গোবিন্দপুর, পুমদী, সাহেদল ইউনিয়নে প্রথমে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টির সাথে ব্যাপক শিলা পড়ে বসতঘরসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেছেড়া,বিল বাগমারা, তারাপাশা, হারেন্জা, জিনারীর ইউনিয়নের পিপলাকান্দি, চর কাটিহারী, চর জিনারী , সাহেদল ইউনিয়নের ১ নং ব্লকের রহিমপুর, আশুলিয়া, ২ নং ব্লকের সাহেদল এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ক্ষতি ছাড়াও লিচু ও কুমরা, কলাবাগান, ভুট্টাসহ সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগীদের সাথে কথা হলে পিপলাকান্দি গ্রামের ইছাহাক মিয়া জানান, তার ৩০ শতাংশ জমির কলা বাগান নষ্ট হয়ে গেছে , ধান জমিন নষ্ট হয়েছে কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো পরামর্শ পাচ্ছি না। কৃষি উপসহকারীকে ফোন দিলেও ধরেই না।একই অভিযোগ এ গ্রামের সাঈুল ইসলাম ,বাবুল মিয়া, হাবিবুল্লা মিয়ার।
হাজিপুর গ্রামের কাসেম মিয়া বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে না আসলেও তার কিছু চেনা মুখদের সাথে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিয়ে চলে যান। একই গ্রামের রসূল মিয়ার অভিযোগ, তিনি একজন প্রকৃত কৃষক। তার ফসলের অনেক জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসারের দেখা মেলেনি।
সিদলা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইন্জিনিয়ার মোস্তফা সারোয়ার সুমন জানান, মেছেড়া তারাপাশা গ্রামে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও উপসহকারীর কোন পরামর্শ বা সহযোগীতায় তাকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাহেদল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কৃষক খোকন কারার জানান, উপসহকারীর মাধ্যমে কোন উপকার বা কোন ধরনের সহযোগীতা গত ছয় দিন ধরে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
টান সিদলা গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত ছয়দিন আগে ফসলের অনেক ক্ষতি হলেও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাচ্ছেনা না। ফলে কৃষকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসীন জানান, হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতিদিনেই মাঠে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগীতা করার কথা । যদি তাদের দায়িত্ব অবহেলা কিংবা গাফিলতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।