তৌকির আহাম্মেদ হাসু, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ব্যাচ-১৯৯২ এর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এসএসসি ব্যাচ-১৯৯২ এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বিএসসি। এছাড়াও ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ ও ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।সকালে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন সহপাঠীরা। কর্মব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা ভুলে শৈশব ও কৈশোরের সোনালি দিনগুলোকে আবারও ফিরে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তারা।অনেকেই বিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসকে ক্যামেরাবন্দি করে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখেন। প্রাণের বিদ্যালয়ে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোলাকুলি ও গল্প-আড্ডার মধ্য দিয়ে নবায়ন হয় বহুদিনের বন্ধুত্বের বন্ধন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ এবং ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যাচ-৯২ এর শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম মুকুল, ফরহাদ হোসেন কিনা, আনিছুর রহমান কাজল, কামাল হোসেন ও বাবলী রহমানসহ অনেকে বলেন, “৩৪ বছর পর বন্ধুত্বের টানে শৈশবের মধুর স্মৃতিচারণায় আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন। আমরা ফিরে এসেছি সেই স্বপ্নময় ক্যাম্পাসে, যেখানে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও আনন্দঘন সময়গুলো কাটিয়েছি। এই পুনর্মিলনী আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হারুনুর রশিদ হারুন।
আব্দুল করিম বলেন,“দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন ও শৈশবের মধুর স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা এই ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন করেছি। সময়ের ব্যবধানে সবাই জীবনের বিভিন্ন পথে ছড়িয়ে পড়লেও বিদ্যালয় জীবনের সেই সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন। এই পুনর্মিলনী শুধু বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেনি, বরং আমাদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিগুলোকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে।”
দিনব্যাপী নানা আয়োজন, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষক সম্মাননার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।