কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এলজিইডি অফিসের দায়সারা তদারকি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতায় কালভার্ট নির্মাণে প্রাণ গেলো অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের ; এ দায় কে নিবে? এমন প্রশ্ন জনগনের।
নিহত সেনা সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার (৫৫) কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে এবং কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. নাজমা আক্তারের স্বামী।
তিনি ঢাকা লালবাগ থানার নবাবগঞ্জে অবস্থিত “দি শানিন কর্পোরেশন লিমিটেড” নামক একটি তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) ও ওভেন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এডমিন শাখায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকুরী করতেন।
গতকাল ২ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ডুমরাকান্দা বাজার থেকে ঢাকা মেট্রো-হ-১৭-৬২১১ নাম্বার যুক্ত একটি মোটরসাইকেলযোগে আব্দুস সাত্তার কুলিয়ারচরের ভাড়াটিয়া নিজ বাসায় যাওয়ার পথে দ্বাড়িয়াকান্দি টু ডুমরাকান্দা সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় নির্মাণাধীন কালভার্টের সামনে এসে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টের বিশাল গর্তে পড়ে মাথায় রড ঢুকে গুরুতর আহত হয়। এসময় পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাবাসী বলছে, এ দায় কে নিবে? কালভার্ট নির্মাণাধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এ দায় এড়াতে পারবে? এমন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। কেননা, দ্বাড়িয়াকান্দি হতে ডুমরাকান্দা সড়কে পুরনো কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলাকালে এলাকাবাসীসহ স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বায়িত্বর ব্যক্তিসহ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়া-কে বহুবার অনুরোধ করেছিলেন একটি বাইপাস রাস্তা তৈরি করে কালভার্টের নির্মাণ কাজ করার জন্য। চোখের সামনে নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে একাধিক দূর্ঘটনা দেখে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক সংবাদ পোস্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কে শুনে কার কথা। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন যাতায়ত করে থাকে। দায়সারাভাবে বাইপাস রাস্তা তৈরি না করেই কোনরকম বেঁরিকেট, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা কোনো সতর্কবার্তা চিহ্ন ছাড়াই বিশাল এক গর্ত করে কালভার্টের নির্মাণ কাজ করতে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এমনকি নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ কালভার্টের কাজ করতে থাকে ধীরগতিতে। দায়িত্বহীন ভাবে তদারকি করতে থাকে উপজেলা এলজিইডি অফিসের তদারকি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার খেসারত দিতে হলো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারকে জীবন দিয়ে। এ দায় এখন কে নিবে? নিশ্চয়ই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা নির্মাণ কাজে তদারকি কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণাধীন কালভার্টটির দুই দিকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে আসছিলো। বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও কেউ কোন কর্ণপাত করেনি। নির্মাণাধীন সড়ক ও কালভার্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়াকে এ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, ব্যারিকেড ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
শাহীন সুলতানা নামে এক সাংবাদিক তার ব্যবহৃত Shahin Sultana নামক ফেসবুক আইডি থেকে গতকাল ২ জুন ২০২৬ইং তারিখ রাতে একটি লিখা পোস্ট করে এঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন-
এই মৃত্যুর দায় কার? এই মৃত্যুর দায় শতভাগ কুলিয়ারচর এলজিইডি অফিস এবং ঠিকাদারকে নিতে হবে
দ্বাড়িয়াকান্দি থেকে ডুমরাকান্দা সড়কে বাইপাস রাস্তা তৈরি করার জন্য অনেক রিকুয়েষ্ট করা হয়েছে। ধাপে ধাপে ভিডিও করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারকে অবগত করা হয়েছে। বাইপাস রাস্তা তৈরি না করেই ব্রীজ নির্মাণ করা!!নাই বেঁরিকেট,নাই সাইনবোর্ড, নাই কোনো সতর্কবার্তা। সাংবাদিকেরা নিউজ করলেই দোষ। সাংঘাতিক হয়ে যায়। বিশেষ করে কুলিয়ারচরের অনেকের কাছে সাংবাদিক নামটাই এলার্জি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রীজের বাইপাস রাস্তা নিয়ে ভিডিও করেছিলাম। কমেন্টগুলো এখনো ডিলেট হয় নি মনগড়া মতো মন্তব্য করতে পারলেই হয়। এল জি ডি অফিসে গেলে ইঞ্জিনিয়ার বলবেন কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের অবগত করবেন হুটহাট ভিডিও ছেড়ে দিলে ব্যাপারটা কেমন দেখায়, টিকাদার ও একই অবস্থা!!! আপনাদের গাফিলতির কারনে আজ একজন মানুষ প্রাণ হারালো। এর দায় আপনারা নিবেন তো?
আজকে সাংঘাতিক বলা এলার্জিগনেরা নিশ্চয় কমেন্ট করতে আসবেন!!!
অপরদিকে ওইদিন মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিক আলি হায়দার শাহিন তার Our Kuliarchar Tv নামক একটি পেইজে লাইভে এসে প্রায় একই রকম কথা বলেন।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস. আর. এম. জি কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজটি পেয়েছেন চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্ত কাজ করছেন ভৈরবের একজন ঠিকাদার। তাদেরকে নিয়ম মেনে সতর্কতা অবলম্বন করে কালভার্টের নির্মাণ কাজ করার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা তার কথা শুনেননি।
জানা যায়, কোন রাস্তা কিংবা ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের শুনতে হয় নানান কথা। আবার কোন কোন সময় হুমকি ধামকির শিকারও হতে হয়। আাবার কেউ কেউ স্থানীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ভয় দেখিয়ে বলেন, এটা ওমুক নেতার কাজ। তখন বিপাকে পরতে হয় সাংবাদিকদের। এর প্রতিকারসহ বাধাহীন ভাবে মন খুলে সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে বস্তুু নিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়ম মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম মহোদয়কে অবগত করাতে পারলেই এসব অনিয়ম কিছুটা দূর করা যেতো।