এমদাদুল হক:
গাজীপুর মহানগরের গাছা ও বাসন থানা এলাকায় সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলের পেছনে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
রোববার (২৭ জুলাই) গাজীপুর মহানগরের পালের মাঠ (মৃধা বাড়ি), ব্লক-বি, বরকত সরণিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগরে এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।
এ সময় জাতীয় কৃষক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইদুল ইসলাম, গাছা থানা সদস্য সচিব নাফিউ পাঠান, যুবশক্তি গাছা থানার আহ্বায়ক সম্রাট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রাহাত হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি গাজীপুরের সালনা, গাছা ও আশপাশের এলাকায় যে ঝটিকা মিছিল হয়েছে, তার পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি অর্থায়ন করছেন বলে তারা বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পেয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এনসিপির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, বিস্ফোরক ব্যবহার, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে গাছা থানা, বাসন থানা এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সি.আর. মামলা নং-৮০৪/২০২৪, জি.আর. মামলা নং-২০/২০২৫ (বাসন থানা)-এর অনুলিপি, পূর্বে দাখিল করা অভিযোগপত্র, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য নথি সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করা হয় বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।