জয়দেব আচার্য্য নিকলী ( কিশোরগঞ্জ)।
কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ৪নং ওয়ার্ডের বড়হাটি, সাহা পাড়া, বর্মনপাড়া ও কামার হাটি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের একমাত্র মাধ্যমটি বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে চার গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ৭০ বছর যাবৎ উক্ত চার গ্রামের পানি গুনিয়া হাটি নিমতলা মাজার সংলগ্ন জায়গা দিয়ে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি সোয়াইজনী নদীতে পানি নিষ্কাশিত হতো। ফলে এই এলাকায় কখনো কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না। কিন্তু গত ৩ আগস্ট ২০২৬ ইং রাতের আঁধারে এলাকার মৃত আব্দুল রাশিদের তিন পুত্র ফরজ আলী (৪৫), সুন্দর আলী (৬০) ও হযরত আলী (৫৫) জোরপূর্বঅবৈধভাবে বালু দিয়ে ওই জায়গাটি ভরাট শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানালে তাদের বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়তে হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনা যাচাই-বাছাই শেষে কাজটি অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে বালু ভরাটের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। এই সুযোগে উপজেলা প্রশাসনে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হলে অভিযুক্তরা কৌশলে পুনরায় বালু দিয়ে জায়গাটি সম্পূর্ণ ভরাট করে তাদের দখলে নিয়ে নেয়। এর ফলে অত্র এলাকার পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চার গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বড়হাটি গ্রামের ভুক্তভোগী আ: আহাদ (পিতা: মৃত মিয়া হোসেন) ৪৩টি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে একটি যৌথ স্বাক্ষরিত লিখিত দরখাস্ত নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জমা দিয়েছেন।
আজ ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা ভূমি অফিস ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদে মাধ্যমে সরকারি ১ নং খতিয়ানের সরকারি জায়গাটি মাপ যোগ করে চিহ্নিত করে কুটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা তা মানছে না উল্টো প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে জায়গাটি তাদের নিজের দাবি করছে। এর ফলে দীর্ঘদিন যাবত পানিবন্দি হওয়া ভুক্তভোগীরা পানিবন্দির কবল থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আ: আহাদ ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান গত এক মাস যাবত আমরা পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এভাবে আর কতদিন আমাদের কষ্টে থাকতে হবে আল্লাহ ভালো জানে। পাশাপাশি তাদের দাবি অভিযুক্ত ব্যক্তির কারণে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন যেন কঠোর আইনি শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা জানান, তিনি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ও জনদুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গাটি মাপ যোগ করে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান।।