করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে শরবতের সঙ্গে অচেতন করার উপাদান মিশিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক মোঃ রফিকুল (৩০) করিমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের চর দেহুন্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত মিনি অটোরিকশা কিনে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গাড়িটির চেসিস নম্বর XGD2069।
রফিকুলের অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি অটোরিকশা নিয়ে করিমগঞ্জ থানাধীন সাকুয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে তার অটোরিকশায় ওঠেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা তাদের একজন রোগীকে নিয়ে সাকুয়া যাওয়ার কথা বলে। তাদের সঙ্গে ভাড়া ঠিক করে রফিকুল পূর্বে গাড়িতে থাকা তিন যাত্রীকে করিমগঞ্জ বাজারে নামিয়ে দেন।
পরে ওই দুই ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে যান। সেখানে এক ব্যক্তি শরবত বিক্রি করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের একজন দুপুর আনুমানিক ১টা ৫১ মিনিটের দিকে শরবত পান করেন এবং রফিকুলকেও এক গ্লাস শরবত এনে দেন। বিশ্বাস করে রফিকুল শরবতটি পান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর ওই ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাস দেখিয়ে সেটি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে কেনার কথা জানান এবং এসির বাতাস খাওয়ার জন্য রফিকুলকে গাড়ির কাছে নিয়ে যান। দরজা খুলে এসি চালু করার পর তিনি অন্যত্র চলে যান। রফিকুল মাইক্রোবাসে ওঠার পর আর কিছু মনে করতে পারেননি।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রফিকুলকে কিশোরগঞ্জ নতুন জেলখানার আনুমানিক ২০০ গজ পূর্ব পাশে একটি কাঁচা রাস্তার পাশে জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর নিজের অটোরিকশাটি বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুলের দাবি, করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে তিন ব্যক্তিকে তার অটোরিকশাটি নিয়ে যেতে দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিখোঁজ অটোরিকশাটি উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রফিকুল।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।