নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিচার,সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় তাড়াইল উপজেলা সদরে পদযাত্রা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন খোলা জায়গায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম,কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,যুগ্ম সদস্য সচিব ড.আতিক মোজাহিদ এমপি সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন তাড়াইল উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মহিউদ্দিন মাসুদ।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল,তার অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষার্থীদের চাকরিতে বৈষম্য দূর করা এবং সুযোগের সমতা নিশ্চিতের দাবি এখনো পূরণ হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন,জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন,ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।
সারজিস আলম আরও বলেন,কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুবিধা ও কৃষি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকরা কৃষি কার্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন,অথচ রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন,কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,জুলাইয়ের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবি এবং জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাতেই তাদের ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি।
তিনি অভিযোগ করেন,রাজনৈতিক মহল ও আমলাতন্ত্রের একটি অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “প্রিয় তারেক রহমান,কিশোরগঞ্জের ফজা পাগলাকে (সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান) থামান।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিপরীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,“জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য হয়নি। জনগণ ন্যায়বিচার,সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চেয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন ছাড়াই বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মতো পদগুলো জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। কোনো ব্যক্তি বা দলের ইচ্ছায় নয়, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হবে।
সভায় সারজিস আলম আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট বিতাড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন,বিএনপির কিছু নেতা ও মন্ত্রীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং রাজনীতিতে ফেরার পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছেন।
তিনি বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছে,তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুগ্ম সদস্য সচিব ড.আতিক মোজাহিদ এমপি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ,রাষ্ট্রীয় সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করছে।
তিনি বলেন,জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এনসিপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে। তিনি তরুণদের দেশ গঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন তাড়াইলের কৃতি সন্তান, কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক সমন্বয়ক ইকরাম হোসেন।
সভা শেষে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগামী তাড়াইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ইকরাম হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।
নেতারা বলেন,তাড়াইলের কৃতি সন্তান ইকরাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আগামী দিনে তাড়াইলের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
এ সময় নেতাকর্মীরা ইকরাম হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পথসভায় কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খাইরুল কবির, সদস্যসচিব আরিফুর রহমান বাবু,ফয়সাল প্রিন্সসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।