তৌকির আহাম্মেদ হাসু, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়ায় বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অপরাধে সজল মিয়া (২৩) নামের এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি কেন্দুয়া কালীবাড়ি এলাকার শামীম মিয়ার ছেলে।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিনাত শহীদ পিংকি এ রায় প্রদান করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মিলন, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)সুমনুর রহমান,১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানা গেছে, গেল ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এনে জামালপুর জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের আশপাশে কিছু যুবক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছে।
অভিযোগের পরেও আজ (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে চলাকালীন সময়ে সজল মিয়া পুনরায় ছাত্রীদের উত্যক্ত করে।এ সময় ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে আটক করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত সজল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিনাত শহীদ পিংকি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মিলন বলেন,আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন ঘটনার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছে।প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আমরা কৃতজ্ঞ।এতে ভবিষ্যতে এমন অপকর্ম করার সাহস কেউ দেখাবে না বলে আশা করি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বখাটে তরুণ এলাকায় ইভটিজিং করে আসছিল। দৃষ্টান্তমূলক এই শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।