গফরগাঁও প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) এ কে এম হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক ভূমি মালিকের দাবি, সাতটি খতিয়ানের খাজনা বাবদ তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকা নেওয়া হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১১২ টাকা। অর্থাৎ, ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯০৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাদিউল ইসলাম টাঙ্গাব ইউনিয়নের দাওয়া দাইর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, জমির বকেয়া খাজনা পরিশোধের জন্য তিনি ভূমি অফিসে গেলে নায়েব হুমায়ুন কবীর তাকে বিভিন্ন খতিয়ানের বকেয়া হিসাব দেখান। কয়েকটি পর্চার পেছনে নায়েব নিজে হাতে হিসাব লিখে ওপরে ‘সমন্বয়’ লিখে দেন। ওই হিসাব অনুযায়ী হাদিউল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু হাতে পাওয়া দাখিলা (রশিদ) পরীক্ষা করে তিনি দেখেন, সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১১২ টাকা।
হাদিউল ইসলাম বলেন, “শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে বাড়িতে গিয়ে অন্যদের দেখালে তারা অনলাইনে যাচাই করে জানান, বিপুল অঙ্কের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি।” তিনি আরও জানান, টাকা ফেরত চাইলে নায়েব তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ৩৬৫ নম্বর খতিয়ানের ১০৭ শতাংশ জমির খাজনা পরিশোধের সময় বকেয়া ও জরিমানাসহ ৩০ হাজার ৫৭৭ টাকা দাবি করা হয়। এবার পুরো টাকা অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আগের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবার তাকে নিয়ম মেনে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ভূমি মালিক জানান, টাঙ্গাব ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। নামজারি ও খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে বকেয়া ও জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নামমাত্র অর্থ সরকারি খাতে জমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। বর্তমানে ম্যানুয়ালি খাজনা আদায়ের সুযোগ নেই। অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব আসায় কম-বেশি করার সুযোগ নেই।” পর্চার পেছনে নিজ হাতের লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, “বিভিন্ন শ্রেণির জমির হিসাব একত্র করে সমন্বয় করা হয়েছিল। তিনি (হাদিউল) শুধু হাল সনের খাজনা দিয়েছিলেন। পরে অন্য খতিয়ানে তিনি বাকি টাকা পরিশোধ করেছেন।”
এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-আমির সালমান রনি বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ দিতে হবে, পত্রিকায় লেখালেখির বিষয়টি সেকেন্ডারী বিষয় তবে লেখৈন না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ভূমি অফিসে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জনস্বার্থবিরোধী। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী হাদিউল ইসলাম আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত পেতে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
#