নিজস্ব প্রতিবেদক
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিচারাধীন জমি জোরপূর্বক দখল, বসতঘর ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক সংখ্যালঘু ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২ টার দিকে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দুয়া পৌরসভাধীন সাহ্পাড়া গ্রামের
ভুক্তভোগী লক্ষ্মী রাণী ও তার ছেলে উজ্জ্বল লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, গত শনিবার (৬ জুন) দিগদাইর গ্রামের নাসির খন্দকার, বাট্টা গ্রামের শাহীন আলম, রুবেল ভূইয়া এবং চিতোলিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া তাঁদের সহযোগীদের সাথে নিয়ে কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কেন্দুয়া পৌরসভাধীন সাহ্পাড়া এলাকায় বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং রোপণ করা ফলদ গাছ কেটে ফেলে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যে ৮৬ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা তার ঘটিয়েছে তা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা (মামলা নং-২১৬, অন্যপ্রকার) বিচারাধীন রয়েছে, এর আগে অভিযুক্তরা লক্ষ্মী রাণী ও তার ছেলে উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন। এরপরও বিচারাধীন জমিতে জোরপূর্বক দখল ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি, বরং তাদের অভিযোগ না নিয়ে অমানবিক আচরণ করেন বলে তারা দাবি করেন। ভাঙচুর ও ভূমি দখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মী রাণী ও তার ছেলে উজ্জ্বল আরও বলেন, আমরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। আমাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাই।অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. নাসির খন্দকার জানান, সংবাদ সম্মেলনে তারা যা প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাদের বাড়ি তো কেন্দুয়া না, তাহলে এই ভূমির মালিকানা কিভাবে দাবি করে? জায়গার যিনি প্রকৃত মালিক তার থেকেই জায়গা ক্রয় করেছি।