নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ১ নম্বর তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং টিনের চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের মূল ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলেও জরাজীর্ণ পরিবেশের কারণে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, পরিষদের বিভিন্ন কক্ষের টিনের চাল মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে টিন খুলে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ভবনের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, রঙ উঠে গিয়ে ভবনজুড়ে এক ধরনের ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরিষদ চত্বরে অব্যবস্থাপনার ছাপ স্পষ্ট। চারপাশের অবস্থা দেখে এটি একটি সচল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বলে বোঝার উপায় নেই, অথচ প্রতিদিন এখানে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে শত শত মানুষ আসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচন এলেই সংস্কার ও উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আর বাস্তবায়নের মুখ দেখে না। ফলে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।
এ বিষয়ে তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল আমিন ভুঁইয়া বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির দিকে জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দেওয়া হোক। একটি আধুনিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ভবনটির দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে তালজাঙ্গাবাসীর জন্য নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক সেবা কেন্দ্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা প্রত্যাশী মানুষ নিরাপদ পরিবেশে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।