নিজস্ব প্রতিবেদক
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট মাইজপাড়া গ্রামে মাত্র ৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলার জটিলতায় রূপ নিয়েছে।
সামান্য এই জমিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি মামলা দায়ের হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাউরাট মাইজপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ গং ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আঙ্গুর মিয়া গংয়ের মধ্যে উক্ত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বিরোধের জেরে আঙ্গুর মিয়া পক্ষদ্বয় বাদী হয়ে নূর মোহাম্মদ গংয়ের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে নূর মোহাম্মদ পক্ষদ্বয়ও কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আঙ্গুর মিয়া গংয়ের বিরুদ্ধে ২টি মামলা করেছেন। বর্তমানে উভয়পক্ষের মামলাগুলোই চলমান রয়েছে।
নূর মোহাম্মদ, তার ভাই সবুজ মিয়া এবং নুরুল হক (পুতুল মিয়া) দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ কাগজপত্র তাদের নামে রয়েছে এবং তারা নিয়ম অনুযায়ী নামজারিও সম্পন্ন করেছেন। তাদের অভিযোগ, জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে আঙ্গুর মিয়া পক্ষ একের পর এক মিথ্যা মামলা করে তাদের হয়রানি করছে।
তারা বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও আঙ্গুর মিয়া পক্ষদ্বয় তাতে কোন সাড়া দেয়নি। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই, কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে বারবার মামলা করা হচ্ছে।
অপরদিকে আংগুর মিয়া ভিন্ন দাবি করে বলেন, জমিটি মূলত তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন। তবে ভুলবশত সেটি নূর মোহাম্মদদের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমির বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদের ওপর একাধিকবার হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
আঙ্গুর মিয়া বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য জমি ফেরতের জন্যেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত যে রায় দেবেন, আমরা তা মেনে নেব। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ন্যায়সঙ্গত কোনো সমাধান হলে সেটিও গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত।
এ বিষয়ে রোববার( ৭জুন) নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য আমিসহ অনেকে একাধিকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু আঙ্গুর মিয়া পক্ষদ্বয় কোন সাড়া দেয়নি তাই এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। তারপরও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।