তৌকির আহাম্মেদ হাসু,স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জ্বালানি তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে এক অভিনব ও বিতর্কিত সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পৌরসভার বাউসী এলাকায় অবস্থিত পপুলার ঝিনাই ফিলিং স্টেশন।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপী ওই ফিলিং স্টেশনটিতে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকদের উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি নির্দিষ্ট ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করলেই মিলছে তেল—লাইন, অপেক্ষা কিংবা নিয়মের তোয়াক্কা ছাড়াই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ-এর ভিজিটিং কার্ডকে ‘বিশেষ টোকেন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কার্ডগুলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে কৃষক ও বাইকারদের কাছে। ফলে যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে পারছেন, তারাই পাচ্ছেন দ্রুত তেল সংগ্রহের সুযোগ।
ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা তেল পাই না। অথচ টাকার বিনিময়ে কার্ড কিনে অন্যরা সহজেই তেল নিয়ে যাচ্ছে।” এতে এক ধরনের অসাম্য ও দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ বলেন,আমার ভিজিটিং কার্ড কে বা কারা ব্যবহার করছে, তা আমার জানা নেই। আমি কোনো কার্ড বিক্রি করিনি।
পপুলার ঝিনাই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা কোনো টোকেন বা কার্ডভিত্তিক তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পাম্পের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এমন একটি সিন্ডিকেট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিজা রিছিল জানান,অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি,দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে জ্বালানি তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।