লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ, এসজিপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লিবিয়ার সমাজকল্যাণ উপমন্ত্রী প্রকৌশলী আলী এমহামেদ আল-নাধুরীর সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে লিবিয়ার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালকবৃন্দ এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিবিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সূচনায় মান্যবর রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মাননীয় উপমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি মাননীয় উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, লিবিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন এবং আকামা প্রক্রিয়ার সময় তারা নিয়মিতভাবে সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে (সুন্দুক্ব-দমান-ইজতিমায়ি) অর্থ প্রদান করে আসছেন। তবে সংশ্লিষ্ট তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তিনি অবহিত করেন।
মাননীয় উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, লিবিয়ার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি অধিবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং লিবিয়ার বিভিন্ন খাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের সুবিধাসমূহ কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সুসংহত করার লক্ষ্যে সামাজিক সুরক্ষা, প্রবীণ কল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। এসব খাতে টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সফর বিনিময়সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠকের শেষে লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তি প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।