1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

কিশোরগঞ্জ পিডিবিতে ভয়াবহ জালিয়াতি: শাটডাউনের নামে পকেটে গেল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা!

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়েছে


​নিজস্ব প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অফিসে দুর্নীতির এক নতুন ও নজিরবিহীন ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৩২ এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না; বরং কর্মকর্তাদের পকেট ভারি করার এক সাজানো ‘নাটক’ ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
​১ লক্ষ ২০ হাজারে বিক্রি হলো জনভোগান্তি
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এই কৃত্রিম বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে। এই বিশাল অংকের টাকা ‘জায়েজ’ করতে সরকারি কন্ট্রোল রুমকেও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
​কন্ট্রোল রুমে মিথ্যা তথ্য ও সাজানো শাটডাউন
​তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ওই দিন সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত লাইন বন্ধ রাখার জন্য কন্ট্রোল রুমে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেন উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ চন্দ্র। তিনি জানান, ট্রান্সফরমার থেকে তেল পড়ছে এবং তা মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘২ নং ফিডার’ বন্ধ করা প্রয়োজন।
​অথচ বাস্তবে কোনো ট্রান্সফরমার নষ্ট ছিল না। মূলত মোটা অঙ্কের বিনিময়ে অবৈধ উপায়ে একটি খুঁটি স্থানান্তরের কাজ করার জন্যই এই শাটডাউন নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে কর্মকর্তারা নিজেদের বাঁচাতে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
​ঠিকাদারদের নাম ভাঙিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা
​জালিয়াতি ঢাকতে সুকৌশলে নিবন্ধিত ঠিকাদারদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হলেও জানা গেছে, এই কাজের বিষয়ে ঠিকাদারেরা কিছুই জানতেন না। কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক সেখানে উপস্থিতও ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ বিশ্বাস এবং অনুজ চন্দ্র মিলে নিজস্ব লোক দিয়ে এই অবৈধ কাজটি করিয়েছেন।
​নির্বাহী প্রকৌশলীর রহস্যজনক নীরবতা
​এই বিশাল জালিয়াতির বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “জেনে জানাবেন” বলে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার এই রহস্যজনক নীরবতা দুর্নীতির সাথে পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
​জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও শাস্তির দাবি
​সরকারি রেকর্ড এবং কন্ট্রোল রুমের তথ্য জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জে তীব্র সমালোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, অনুজ চন্দ্র এবং ইলেকট্রিশিয়ান দিলীপ বিশ্বাসকে দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST