তৌকির আহাম্মেদ হাসু,স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর কেন্দুয়া ইউনিয়নের মৌহাডাঙ্গা গ্রামে ঝিনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে।এতে নদীতীরবর্তী ফসলি জমির পাড় ভেঙে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুধু জমি রক্ষার উদ্বেগই নয়,বালু উত্তোলনে আপত্তি জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জোবাইদুল ইসলাম সোহেল। তাঁর দাবি, প্রতিবাদ করায় তাঁর বৃদ্ধ বাবাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজের জমিসহ আশপাশের কৃষিজমি রক্ষায় জামালপুর সদর উপজেলা ১ নম্বর কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সোহেল।নদী থেকে বালু উত্তোলন, কৃষিজমি নিয়ে শঙ্কা
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে মৌহাডাঙ্গা এলাকায় ঝিনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সোহেল।তাঁর অভিযোগ, সোহাগ মিয়া এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগকারীর আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর তীরবর্তী মাটি সরে গিয়ে জমির পাড় ভেঙে পড়তে পারে।এতে তাঁর নিজের জমিসহ আশপাশের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কৃষিনির্ভর এ এলাকার মানুষের জীবিকা ও ফসল উৎপাদন হুমকিতে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রশ্ন উঠেছে, বালু উত্তোলনের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না এবং উত্তোলন কার্যক্রম পরিবেশ ও কৃষিজমির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না। এসব বিষয় সরেজমিন তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
শেখ জোবাইদুল ইসলাম সোহেলের অভিযোগ, বালু উত্তোলনে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ বন্ধ রাখতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর দাবি, এ সময় তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হন। সোহাগ মিয়া তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
একটি জমি কিংবা নদীর স্বার্থ রক্ষায় আপত্তি জানানোকে কেন্দ্র করে যদি কোনো নাগরিককে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়,তবে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।তবে অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সোহেল।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সদর উপজেলা ১ নম্বর কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন অভিযোগকারী। আবেদনে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এখন স্থানীয়দের প্রধান উদ্বেগ—প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের আগেই যদি নদীর তীর ভেঙে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই ক্ষতির দায় কে নেবে? সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মিয়া বলেন, “আমি আমার নিজের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি।”
১ নম্বর কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানি।