1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মদন শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১দিনব্যাপী কালচারাল ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে পুরস্কার-অধিনায়ক র‍্যাব-৭ রাস্তা বনায়ন কর্মসূচির অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বেপরোয়া গাড়িচালকদের হর্নে অতিষ্ঠ তাড়াইলবাসী কুড়িগ্রাম বিসিআইসি বাফার গুদাম পরিদর্শন বিদায় সংবর্ধনায় ভালোবাসায় সিক্ত সহকারী শিক্ষক রফিক আহম্মদ সোবহানী ৯/১১: টুইন টাওয়ার ভেঙেছিল, বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরতাও বদলে দিয়েছিল পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কামালের ডেপুটেশন ঘিরে প্রশ্ন কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের পরিচিতি ও প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত
শিরোনাম
মদন শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১দিনব্যাপী কালচারাল ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে পুরস্কার-অধিনায়ক র‍্যাব-৭ রাস্তা বনায়ন কর্মসূচির অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বেপরোয়া গাড়িচালকদের হর্নে অতিষ্ঠ তাড়াইলবাসী কুড়িগ্রাম বিসিআইসি বাফার গুদাম পরিদর্শন বিদায় সংবর্ধনায় ভালোবাসায় সিক্ত সহকারী শিক্ষক রফিক আহম্মদ সোবহানী ৯/১১: টুইন টাওয়ার ভেঙেছিল, বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরতাও বদলে দিয়েছিল পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আ.লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কামালের ডেপুটেশন ঘিরে প্রশ্ন কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের পরিচিতি ও প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত

৯/১১: টুইন টাওয়ার ভেঙেছিল, বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরতাও বদলে দিয়েছিল

  • প্রকাশ কাল রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়েছে


লেখাঃরেহানা ফেরদৌসী

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। নিউইয়র্কের আকাশে একটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করার পর পরবর্তী ঘটনাগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ। ধসে পড়েছিল টুইন টাওয়ার; একই সঙ্গে নড়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিমান চলাচল, আর্থিক বাজার এবং মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
২৫ বছর পর ফিরে তাকালে তাই প্রশ্নটি শুধু কত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল—তা নয়। বরং আরও বড় প্রশ্ন হলো, সেই দিনের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ধাক্কা কতটা সামলে উঠেছে বিশ্ব, আর কী কী পরিবর্তন স্থায়ীভাবে থেকে গেছে অর্থনীতি ও বিশ্বব্যবস্থায়?

ধ্বংসস্তূপের প্রথম হিসাব
৯/১১-এর অর্থনৈতিক অভিঘাত ছিল বহুমাত্রিক। নিউইয়র্কের আর্থিক বাজার কয়েক দিন বন্ধ ছিল। পুনরায় চালুর পর শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক ব্যবস্থায় তারল্য সরবরাহ করে সম্ভাব্য বৃহত্তর সংকট ঠেকানোর চেষ্টা করে।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারকে ঘিরে সম্পদহানি, আয়হানি, উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার ব্যয় কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে বিমান পরিবহন, পর্যটন, বীমা, খুচরা ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অসংখ্য খাত বড় ধাক্কা খায়। বিমান চলাচলে মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
অর্থাৎ, ৯/১১-এর প্রথম অর্থনৈতিক ক্ষতি ছিল দৃশ্যমান—ভবন, ব্যবসা, বাজার, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর ওপর। কিন্তু এর চেয়েও গভীর ছিল অদৃশ্য ক্ষতি: নিরাপদ ও অনুমানযোগ্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাসে আঘাত।

বাজার ফিরেছে, কিন্তু অর্থনীতির আচরণ বদলেছে
সময়ের সঙ্গে সেই তাৎক্ষণিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। নিউইয়র্কের আর্থিক বাজার আবার স্বাভাবিক হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রযুক্তি অর্থনীতি অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে।তাই আজকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা বা অনিশ্চয়তাকে সরাসরি ৯/১১-এর ফল বলা সঠিক হবে না। এর মধ্যে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্য সংকট এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব রয়েছে।
তবে ৯/১১ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছিল—অর্থনীতিতে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে স্থায়ীভাবে হিসাবের অংশ করে তোলা।

জন্ম নিল ‘নিরাপত্তা অর্থনীতি’
হামলার পর বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত, কার্গো পরিবহন এবং আর্থিক লেনদেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হয়। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুরক্ষাও ধীরে ধীরে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
এই পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। নিরাপদ বিমান চলাচল,শক্তিশালী আর্থিক নজরদারি কিংবা সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ—এসবের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রতিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে বিপুল সরকারি ও বেসরকারি ব্যয়।এখানেই আসে অর্থনীতির পুরোনো প্রশ্ন—একটি নিরাপদ পৃথিবীর মূল্য কত, এবং সেই মূল্য কে বহন করে?

যুদ্ধের খরচ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে না
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক অভিযানও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এই ব্যয়কে শুধু প্রতিরক্ষা বাজেটের সংখ্যা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ অর্থ বোঝা যায় না। বৃহৎ সামরিক ব্যয়ের একটি সুযোগ-ব্যয়ও থাকে। একই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, গবেষণা কিংবা জলবায়ু মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা হলে তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফল ভিন্ন হতে পারত।তবে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বা বৈশ্বিক ঋণের পুরো দায় ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। পরবর্তী দুই দশকে আর্থিক সংকট, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়, সুদের হার, রাজস্বনীতি ও অন্যান্য কারণ ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৯/১১ ছিল সেই দীর্ঘ আর্থিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, পুরো গল্প নয়।

বিশ্বায়নের ভেতরেও ঢুকে পড়ল ঝুঁকির হিসাব
৯/১১-এর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিরাপত্তা যাচাই, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত স্তর যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে মহামারি, যুদ্ধ ও বাণিজ্য সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—দূরবর্তী কোনো সংকটও মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে নাড়া দিতে পারে।ফলে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে শুধু উৎপাদন ব্যয় বা বাজারের আকার নয়, এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিবহন নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা, সীমান্তঝুঁকি এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতাও বিবেচনায় আসে।এ কারণেই আজকের ‘চায়না+১’, ‘ফ্রেন্ডশোরিং’ বা সরবরাহব্যবস্থা বহুমুখীকরণের প্রবণতাকে শুধু ৯/১১-এর ফল বলা যাবে না। তবে ৯/১১-পরবর্তী নিরাপত্তা-সচেতন বিশ্ব এই চিন্তার ভিত্তি শক্ত করেছে—এ কথা বলা যায়।

২০২৬: আমরা কি সত্যিই ঘুরে দাঁড়িয়েছি?
অর্থনৈতিক সূচকের বিচারে উত্তর—অনেকটাই হ্যাঁ।নিউইয়র্ক আবারও বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও উৎপাদন ২০০১ সালের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। প্রযুক্তি অর্থনীতির বিস্তার মানুষের জীবন ও ব্যবসার ধরন পাল্টে দিয়েছে।কিন্তু অর্থনীতির আরেকটি সূচক আছে, যার নাম আস্থা।আজ বিশ্বের কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বীমা প্রিমিয়াম, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত কিংবা সরবরাহব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হয়। অর্থাৎ ৯/১১ আমাদের এমন একটি বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছিল—রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কখনোই অর্থনীতি থেকে আলাদা নয়।

ধ্বংসস্তূপ সরেছে, শিক্ষা রয়ে গেছে
২৫ বছর পর তাই ৯/১১-এর অর্থনৈতিক উত্তরাধিকারকে শুধু ক্ষতির অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে।তাৎক্ষণিক ক্ষতির বড় অংশ ইতিহাসের পাতায় চলে গেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যয়ের বিস্তার, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আর্থিক মূল্য, আন্তর্জাতিক লেনদেনে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে নিয়ে আসার মতো পরিবর্তনগুলো বিশ্বব্যবস্থায় স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সমৃদ্ধির জন্য শুধু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; দরকার স্থিতিশীলতা, আস্থা ও সহযোগিতা।

টুইন টাওয়ারের জায়গায় আজ দাঁড়িয়ে আছে নতুন ভবন। নিউইয়র্কের আকাশ আবার আলোয় ভরে গেছে। বাজারও ফিরে পেয়েছে তার গতি। কিন্তু ইতিহাসের কিছু ঘটনা পুনর্গঠিত ভবনের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না; তারা মানুষের প্রতিষ্ঠান, নীতি ও মানসিকতায় নতুন অধ্যায় তৈরি করে।
৯/১১ আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেনি; বরং অর্থনীতি কীভাবে নিরাপত্তা, রাজনীতি ও মানবিক আস্থার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত—তা নির্মমভাবে দেখিয়ে দিয়েছে।তাই ২৫ বছর পর আসল প্রশ্ন, “৯/১১-এর ক্ষতি কি পুরোপুরি শোধ হয়েছে?”—এটি নয়।
আসল প্রশ্ন হলো—সেই বিপর্যয়ের পর আমরা কি এমন একটি বিশ্ব গড়তে পেরেছি, যেখানে নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধের চেয়ে সহযোগিতা, ভয়ের চেয়ে আস্থা এবং প্রতিশোধের চেয়ে ন্যায়বিচার বেশি কার্যকর?কারণ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা যায়। বাজারকে আবার দাঁড় করানো যায়। কিন্তু বিশ্বব্যবস্থায় হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে লাগে আরও অনেক বেশি সময়।৯/১১-এর ২৫ বছর পর সেই আস্থাই হয়তো বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অসম্পূর্ণ হিসাব।
সৃষ্টিকর্তা ৯/১১-এর নিহতদের আত্মার শান্তি দান করুন এবং মানবজাতিকে এমন এক পৃথিবী গড়ার বোধ দিন, যেখানে নিরাপত্তা ও শান্তি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়—বরং একে অপরের ভিত্তি।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ