তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরে বেপরোয়া গাড়িচালকদের অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারে দিন দিন বাড়ছে শব্দদূষণ। ব্যস্ত সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার আশপাশে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানোর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজট বা সামান্য প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলেই অনেক চালক একের পর এক উচ্চ শব্দে হর্ন বাজাতে থাকেন। কেউ কেউ অকারণেও দীর্ঘ সময় হর্ন ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ইজিবাইক, অটোরিকশা, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনের অতিরিক্ত হর্নের শব্দে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
শব্দদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানোর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আশপাশেও একই ধরনের শব্দদূষণ রোগীদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক হর্ন এবং অপ্রয়োজনীয় উচ্চ শব্দের হর্ন—দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু তাড়াইলে অনেক চালকের মধ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু শব্দদূষণই নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
নাগরিকদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের অভাবেই কিছু চালক দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা নয়, শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে বাস্তব ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—তাড়াইল উপজেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষায়, “তাড়াইলের সড়ক শুধু যান চলাচলের জন্য নয়, মানুষের বসবাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেরও অংশ। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি একটি শান্ত, নিরাপদ ও শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে তাড়াইলের জনবহুল এলাকায় অপ্রয়োজনীয় শব্দদূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে।