নিজস্ব প্রতিবেদক |
কিশোরগঞ্জে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)’-এর নাম ব্যবহার করে একটি ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে বারবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় এনআইডি কার্ডের নিরাপত্তা নিয়ে এক নাগরিক প্রশ্ন তুললে গ্রুপের প্রতিনিধি পরিচয়ে ‘সাইফুল’ (SAYFUL) নামের এক ব্যক্তি চরম অপেশাদার, অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। ‘হাওর উন্নয়ন বিষয়ক গ্রুপ (ইফা) কিশোরগঞ্জ সদর’ নামের ওই মেসেঞ্জার গ্রুপে ঘটনাটি ঘটে। সচেতন মহলের দাবি, কোনো প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সাধারণ নাগরিকদের সাথে এমন আচরণ করতে পারেন না। এর পেছনে কোনো প্রতারক চক্রের হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্ক্রিনশট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই মেসেঞ্জার গ্রুপে সাইফুল নামক ব্যক্তির বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ভুল ও অপেশাদার আচরণ পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, একজন নাগরিক যখন তার ব্যক্তিগত তথ্যের (এনআইডি) নিরাপত্তা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন করেন, তখন সাইফুল চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে লেখেন, “টাকা পাবার চিন্তা থাকলে যতবার চায় ততবারই দিতে থাকুন।” সরকারি সেবার নামে এমন চটুল ও উপহাসমূলক ভাষা ব্যবহার সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সাথে গ্রুপে থাকা মাহবুবুল নামের অপর একজন “কিছু পাইতে পেরা নিতে হবে” বলে মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।
সাইফুল যখন একের পর এক অপেশাদার ও অযুক্তিক উত্তর দিচ্ছিলেন, তখন ওই ভুক্তভোগী নাগরিক বুঝতে পারেন যে তার সাথে কথা বলে এই সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্য এবং সঠিক তথ্য জানার স্বার্থে তিনি সাইফুলের কাছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিশোরগঞ্জ জেলা পরিচালকের মোবাইল নম্বর চান। কিন্তু সাইফুল নম্বরটি সরবরাহ না করে কেবল ‘আপনি এসে সাক্ষাৎ করুন’ এবং ‘অফিসে এসেই কথা বলতে হবে’ বলে এড়িয়ে যান। নাগরিক যখন একটি জেলা পর্যায়ের দপ্তরের এমন অপেশাদার উত্তরের প্রতিবাদ করেন, তখন সাইফুল নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো অহংকার দেখিয়ে বলেন, “আপনি যেভাবে কথা শুরু করেছেন সেভাবেই উত্তর দেয়া হয়েছে।”
একজন সেবাপ্রত্যাশীকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নম্বর না দেওয়া এবং বারবার এনআইডি কার্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিক বা দাপ্তরিক ব্যাখ্যা না দেওয়া দাপ্তরিক স্বচ্ছতার চরম পরিপন্থী। সাইফুলের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নম্বর না পাওয়ায় এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা ইফা কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে সরাসরি অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি ইউনিয়নের ১৫টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারিভাবে নিয়মিত ভাতা দেওয়ার কোনো সরকারি ঘোষণা বর্তমানে নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি এবং বিভিন্ন সাইবার অপরাধে অন্যের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ চক্র। এমন পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেসেঞ্জার বা অনলাইনের মাধ্যমে অপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই ‘হাওর উন্নয়ন বিষয়ক গ্রুপ (ইফা) কিশোরগঞ্জ সদর’ গ্রুপটির সত্যতা যাচাই করা। এই গ্রুপের সাথে জড়িত সাইফুল নামক ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই সরকারি কর্মকর্তা কি না এবং ইমামদের আইডি কার্ড নিয়ে কোনো প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি।