নরসিংদী প্রতিনিধি: বটিবন্দ গ্রামের একটি জমির পাশে প্রতিবেশির লাগনো বড় বড় কয়েকটা কড়ই গাছ। যার কারনে জমিতে কোন ফসল ফলাতে পারেনা জমির মালিক প্রবাসী সুজন মিয়া। একারনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম।
অভিযোগ দায়েরের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ করে আসেন তারা যেন দুইপক্ষকের উপস্থিতিতে গাছগুলোর ডাল কেটে দেন। তারই প্রেক্ষিতে গত কিছুদিন আগে হাসিনা বেগম স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি মানিক মিয়া ও কয়েকজনের উপস্থিতিতে ৭/৮ টি গাছের ডাল শ্রমিক দিয়ে কাটার সময় কাইয়ুম মিয়া খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে বাঁধা দেয় এবং গালিগালাজ করেন।
প্রবাসী সুজন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান ,প্রায় ১৫ বছর আগে এই জমির মালিক ছিল বটিবন্দ গ্রামের বৃদ্ধ রোজিনা ও তার দুই মেয়ে। জমির সাথেই ছিল কাইয়ুম মিয়ার জমি। জমিতে যেন ওই বৃদ্ধা ফসল ফলাতে না পারেন ও জমিটি কাইয়ুম মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন সেজন্য কাইয়ুম মিয়া জমির অইলে বড় বড় কড়ই গাছ লাগায়। কড়ই গাছের শাখা প্রশাখা বড় হয়ে জমির উপর চলে যাওয়ায় জমিটি চাষাবাদে অনপুযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ওই বৃদ্ধা জমিটি বিক্রি করে দেয়ার কথা বললে। কাইয়ুম মিয়া ও প্রতিবেশী সুজন মিয়া জমিটি ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব করে। বৃদ্ধা বেশি দাম পাওয়ায় জমিটি বিক্রি করে প্রবাসী সুজন মিয়ার কাছে। ফলে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয় কাইয়ুম মিয়ার সাথে সুজন মিয়ার। এসময় কাইয়ুম মিয়ার কথামত তাকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা প্রদান করে সুজন মিয়া। কিন্তু জমি কিনে বিপাকে পড়ে সুজনের পরিবার। জমির উপরে কাইয়ুম মিয়ার লাগানো প্রায় ১০ থেকে ১৫টি বড় কড়ই গাছ থাকায় ফসলাদী উৎপাদন করতে পারেনা তারা। তারই প্রেক্ষিতে থানার আশ্রয় নেয় প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম। থানা পুলিশের কথামত কয়েকটা গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে নতুন করে দ্বন্ধে জড়ায় কাইয়ুম ও প্রবাসী সুজনের পরিবার।
প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন,আমার স্বামী বেশ কিছুদিন ধরে ইতালীতে আছে। আমি বাড়ির জমি জামা দেখাশুনা করি। এরই মধ্যে আমার জমির উপর কাইয়ুম মিয়ার লাগানো কয়েকটা বড় বড় কড়ই গাছের ছায়ার কারনে জমিতে ফসল ফলাতে পারিনা। পরে থানায় অভিযোগ করি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েকটা গাছের ডাল কেটে ফেলি। তারপর থেকে কাইয়ুম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে থাকে। তার ভাই প্রবাসী সেলিম মিয়া এ এই দিয়ে আমার প্রবাসী স্বামীকে ছাগল চোর ও গলায় জুতার মালা পড়ানো অবস্থার ছবি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যার কারনে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। আমি এ ঘটনায় কাইয়ুম ও তার ভাই সেলিমের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করবো।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মানিক মিয়া জানান, কিছুদিন আগে বেলাবো থানার পক্ষ থেকে আমাকে ও আক্তার মেম্বারকে দায়িত্ব দেয়া হয়ছিল আমরা যেন জমির উপরের ডালগুলো কেটে দেই। যেদিন ডাল কাটার কথা সেদিন সেদির আক্তার মেম্বার উপস্থিত ছিলনা। ফলে আমার ও এলাকার কয়েকজনের সামনে মাসুম নামে এক শ্রমিক দিয়ে কয়েকটা গাছের ডাল কাটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন,গাছের ডাল কাটার দিন আমার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে আমাকে ছাড়াই তারা গাছ কেটে ফেলে।
এ ব্যাপারে কাইয়ুম মিয়ার বক্তব্য নিতে তার বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের কাছে কোন বক্তব্য দিবেনা বলে জানান। পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করার পরও সে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বেলাবো থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সুব্রত দাস জানান,ঘটনাটি প্রায় ৬ মাস আগের কাইয়ুম মিয়ার কড়ই গাছের ডালের কারনে ফসল না করতে পারায় হাসিনা নামে একজন থানায় অভিযোগ করে। আমরা এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মেম্বার,মানিক মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালীকে দায়িত্ব দিয়ে আসি তারা যেন গাছের ডালগুলো কেটে দেয়। এরপর শুনেছি মানিক মিয়ার উপস্থিতিতে কয়েকটা ডাল কাটা হয়।তবে ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য উভয় পক্ষকে থানায় কয়েকবার ডেকেছি। এখনো মিমাংসা হয়নি।তবে আমি আশাবাদী ঘটনাটি মিমাংসা করা যাবে।