নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি আঁশ পাটের আবাদে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড তাপদাহ, সময়মতো বৃষ্টির অভাব এবং আকস্মিক আগাম বন্যার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি পাটের আবাদ। বৈরী প্রকৃতির এই জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নে মোট ৭০৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক জমিতে চারা ঠিকমতো না গজানোয় আবাদের পরিধি সংকুচিত হয়ে ৬৫০ হেক্টরে নেমে আসে।
বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরও কৃষকদের চোখেমুখে প্রত্যাশিত লাভের আনন্দ নেই। স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে বৃষ্টির অভাবে পাটের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পাট কাটার সময় হলেও জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি আশপাশে ছিল না। বাধ্য হয়ে দূরের জলাশয়ে পাট নিতে গিয়ে পরিবহন ও অতিরিক্ত শ্রমিকের পেছনে তাদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও পাটের মান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। তাড়াইল সদর বাজারের পাট ব্যবসায়ী নিরঞ্জন সরকার জানান, বাজারে এখন মান ও রঙের ওপর ভিত্তি করে পাটের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। বর্তমানে উৎকৃষ্ট মানের পাট সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে যাদের পাটের আঁশের মান খারাপ হয়েছে, তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে বাজারদর ভালো থাকার পরও বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাওয়ার দশা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় জানান, মূলত মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার বৈরিতার কারণেই পাটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে এবং হেক্টরপ্রতি গড়ে আড়াই টন করে ফলন মিলছে। বর্তমান আবহাওয়া পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকানোর জন্য বেশ অনুকূলে থাকায় কৃষকরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।