মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃষির আধুনিকায়ন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এক পার্টনার কংগ্রেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ। সঞ্চালনা করেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আজহার মাহমুদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণালব্ধ জ্ঞান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বাজারভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন সাবেরী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, কটিয়াদী পৌর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম এবং জালালপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন।
এছাড়াও কর্মশালায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি এবং পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাতের ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, বাজারজাতকরণ, কৃষিতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারী কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে গবেষণা, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ডিজিটাল কৃষি সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, পার্টনার কংগ্রেসের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কৃষিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। এ উদ্যোগের ফলে কটিয়াদী উপজেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।