নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং এর প্রতিবাদ করায় আট মাস বয়সী এক শিশুর বাবাকে রুমের দরজা আটকে মারধর ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. উবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ এবং হাসপাতালের স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহর একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। ভিডিওতে তাঁকে অত্যন্ত কান্নাকাতর কণ্ঠে অভিযোগ করতে দেখা যায় যে, হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলার প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। উল্টো অভিযোগ করে তিনি বলেন, রোগীর বাবা উবায়দুল্লাহ নিজেই তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন এবং হেনস্তা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি উবায়দুল্লার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে নারী নির্যাতনের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, পাকুন্দিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. উবায়দুল্লাহ তাঁর আট মাসের শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে যান। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসক দেরিতে আসায় অপেক্ষারত অবস্থায় উবায়দুল্লাহ তাঁর মোবাইল ফোনে চিকিৎসকের অবহেলার প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও চিত্র ধারণ করেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসক রুমে প্রবেশ করলে উবায়দুল্লাহ তাঁর সন্তানের চিকিৎসার জন্য ভেতরে যান। এ সময় ভিডিও করার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্টাফদের রুমের দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
লিখিত অভিযোগে উবায়দুল্লাহ উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের নির্দেশে রুমের ভেতর থাকা ৭-৮ জন হাসপাতাল স্টাফ তাঁর ওপর চড়াও হন এবং আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ নিজেই চেয়ার থেকে উঠে এসে তাঁর জামার কলার ও গলা চেপে ধরেন।
এ সময় ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকার শুনে বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য রোগীর স্বজনরা রুমে প্রবেশ করে তাঁকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়ার সময়ও অভিযুক্ত চিকিৎসক এবং হাসপাতালের স্টাফরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি চিকিৎসক হয়ে রোগীর চিকিৎসা না করে উল্টো অভিভাবকের ওপর এমন চড়াও হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী বাবা।
জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নাজমুল করিম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, এই বিষয়ে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেব।
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূর মো. শামসুল আলম বলেন, সিভিল সার্জন ফোন দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছে। রোববার (১৩ জুন) ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।