মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার :
রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো স্টাফ খারাপ আচরণ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে সম্মানজনক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সেজন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুর-এ আলম খান, উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, শিশু ও মাতৃসেবা ইউনিট এবং রোগীদের খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কয়েকজন রোগী হাসপাতালের সার্বিক সেবার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কিছু রোগী চিকিৎসক সংকট ও বিভিন্ন ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন।
এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের উদ্দেশে বলেন, রোগীরা অসহায় অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা মানবিক দায়িত্ব। কোনো রোগী যেন অবহেলা বা খারাপ আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা রুট লেভেলে বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হঠাৎ পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত চিত্র যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে। যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদেরও খুঁজে খুঁজে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে আরও সচেতনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।