স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ সারোয়ার হোসেন
আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার নতুন প্রত্যয় অসহায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বেকার তরুণদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা অলাভজনক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সোশ্যাল এমপ্লয়মেন্ট রিস্টোরেশন সাপোর্ট (এসইআরএস) ফাউন্ডেশন’-এর গুরুত্বপূর্ণ এক যৌথ সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় নির্বাহী বোর্ড এবং নবগঠিত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা বোর্ডের সম্মানিত সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এসইআরএস (SERS) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এমরাজ আলী শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, কৌশলগত নীতি নির্ধারণ এবং মাঠপর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ ড. আরিফুজ্জামান। তিনি সংস্থার আয়বর্ধক পরিকল্পনা ও সামাজিক ব্যবসা কাঠামোর টেকসই রূপরেখা গঠনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও, উপদেষ্টা বোর্ডে ‘ইয়ুথ অ্যান্ড লিডারশিপ ডেভলপমেন্ট’ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুব উন্নয়ন ও নেতৃত্ব গঠনে বিশেষ পরামর্শ দিতে যুক্ত হয়েছেন মো. রিধওয়ান তাসকিন রাতুল। সভায় নির্বাহী বোর্ডের নবনিযুক্ত সদস্যদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে এসইআরএস (SERS) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এমরাজ আলী শিকদার বলেন, “আমরা কেবল কিছু দাতব্য কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ৪৪০টিরও বেশি উপজেলাভিত্তিক ই-কমার্স হাব তৈরি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা, যুবকদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্থায়ী আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন নিশ্চিত করা। আজকের এই সফল বৈঠকের মাধ্যমে দেশের সেরা বিশেষজ্ঞদের আমাদের উপদেষ্টা বোর্ডে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।”
সভায় উপস্থিত বক্তারা এসইআরএস (SERS) ফাউন্ডেশনের ১৪টি মূল প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDGs) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ৭টি থিম্যাটিক সেক্টরের অধীনে পরিচালিত কার্যক্রমসমূহকে সাধুবাদ জানান। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষক, অসংগঠিত খাতের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং পথশিশুদের সামাজিক সুরক্ষায় পরিকল্পিত ইউনিভার্সাল শেল্টার প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যমত প্রকাশ করেন।
মিটিংয়ের শেষে নতুন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র ও চুক্তি সম্পন্ন হয়। সকল সদস্য ও সহযোগীদের আন্তরিক অংশগ্রহণে সভাটি অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে সমাপ্ত হয় এবং শিগগিরই দেশব্যাপী প্রান্তিক পর্যায়ে পাইলট প্রজেক্ট শুরুর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।