বিশেষ প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনস্থ এক গ্রাহকের মিটারে বিপুল পরিমাণ রিডিং গোপন রাখা এবং অনৈতিক উদ্দেশ্যে সংযোগের ক্যাটাগরি/ট্যারিফ পরিবর্তনের (LT-D1) গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই বিষয়টি তদন্তে নেমেছেন ময়মনসিংহের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল বাশার ফারুক।
প্রাপ্ত অডিও রেকর্ড ও সংগৃহীত নথিপত্র থেকে জানা গেছে, কালের নতুন সংবাদের প্রতিনিধি ফয়জুল কবির ভূঁইয়ার সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল বাশার ফারুক কিশোরগঞ্জের এই দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অডিও কথোপকথনে উন্মোচিত চাঞ্চল্যকর তথ্য:
১. শো-কজ ও কৈফিয়ত তলব: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল বাশার ফারুক জানান, গ্রাহকের মিটারে বিপুল পরিমাণ রিডিং জমিয়ে রাখার বিষয়টি নজরে আসার পর ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। রিডিং জমা রাখার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদারকির চূড়ান্ত দায়িত্ব নির্বাহী প্রকৌশলীর। তাঁর এলাকাধীন গ্রাহকের সঠিক বিল হচ্ছে কি না, তা দেখা তাঁরই কর্তব্য।”
২. ট্যারিফ জালিয়াতির অনুসন্ধান: বাণিজ্যিক (Commercial) লাইনকে অনৈতিকভাবে ‘LT-D1’ (আবাসিক/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি জানান, মাদ্রাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও এখানে প্রকৃতপক্ষে কতদিন ধরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চলছিল এবং কবে থেকে ভাড়া চুক্তি বা ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩. উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা: প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ তদন্তের জন্য তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন ৷ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল কারসাজি: উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এলাকার গ্রাহক মোঃ নাজমুল হকের (গ্রাহক নং- ৯৫০৫৮৩৮৮, মিটার নং-২৫০৪৯৯) ২০২৬ সালের জুন মাসের বিলে বর্তমান রিডিং দেখানো হয়েছিল ২৭,৮৯৫ ইউনিট ৷অথচ সরেজমিনে মিটারের ডিসপ্লেতে আসল রিডিং পাওয়া যায় ৪৯,৩৮৯,৬ ইউনিট। অর্থাৎ মিটারে ২১৪৯৪ ইউনিটের বিশাল রিডিং বকেয়া রাখা হয়৷ পরবর্তীতে এই বিশাল অংকের জমানো রিডিং ও অর্জিত সুবিধা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে গত ১৯/৮/২০২৬ তারিখে একটি বিল কারেকশন ফরম’- এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্যাটাগরির বিলটিকে কৌশলে’LT-D1 ট্যারিফে রূপান্তর করা হয়। কৃষক পিডিবি নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ ও মিটার রিডার নাঈমের যোগসাজশে এই জালিয়াতি পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে । তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর এমন তড়িৎ পদক্ষেপের পর এখন কিশোরগঞ্জ পিডিবির অভ্যন্তরীণ এই দুর্নীতি সিন্ডিকেটের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ।