1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে জমি দখল ও খামার নির্মাণের অভিযোগ

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়েছে


নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের ঝিকরজোড়া গ্রামে পুকুরের জমি দখল, অবৈধভাবে মুরগির খামার নির্মাণ, আদালতের নির্দেশনা অমান্য এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মামলার নথি, আদালতের আদেশ এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাছির উদ্দিনকে ১৮ দিন কারাবাস করতে হয়। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।
আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র অনুযায়ী, ঝিকরজোড়া গ্রামের আরএস রেকর্ডীয় মালিক মরহুম আব্দুর রহিম মেম্বার ২০১৬ সালে ৫৮৯০ ও ৮২২৪ নম্বর হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁর বড় মেয়ে মোছা. বিলকিছ আক্তারের নামে পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশে পুকুরসহ বিভিন্ন সম্পত্তি হিস্যা অনুযায়ী ভাগ করে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে বাদীপক্ষের দাবি।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরএস ৩৩৫৯ দাগের পুকুরের অংশে বিলকিছ আক্তার তাঁর প্রাপ্ত প্রায় ৬ শতক জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। পরে ছোট বোন নেকলেছ আক্তারের অংশও দুই বছরের জন্য মৌখিক লিজে নিয়ে মাছ চাষ অব্যাহত রাখেন। তবে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নেকলেছ আক্তারের স্বামী বাছির উদ্দিন পুরো পুকুর ও সংশ্লিষ্ট জমি দখল করে সেখানে মুরগির খামার নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ার অভিযোগ এনে বিলকিছ আক্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে নেকলেছ আক্তারও একই ধারায় পৃথক মামলা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, উভয় পক্ষের অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাছির উদ্দিন পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে কার্যক্রম চালিয়ে যান।
এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিলকিছ আক্তার তাঁর অংশের ৫.২৫ শতক জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে স্বামী হারুন অর রশিদের নামে হস্তান্তর করেন। পরে ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাছির উদ্দিন, নেকলেছ আক্তার এবং তাঁদের সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই জমি দখল করেন বলে হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন।
এরপর হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ধারা ৪(২), ৭(৩) ও ১৬-এর অধীনে আদালতে মামলা (নং-৪৮০/২৫) দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদীর দাবি করা জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ, দখল গ্রহণ এবং দখল বজায় রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পিবিআই কিশোরগঞ্জের একটি তদন্ত দল সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহিদুল হক আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জমি দখলের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন বলে মামলার নথি থেকে জানা যায়।
বাদীপক্ষের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনের পর বাছির উদ্দিন একটি দেওয়ানি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের আইনগত অধিকার রক্ষার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণের পর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে বাছির উদ্দিন ও নেকলেছ আক্তার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে তাঁরা আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন বলে জানা যায়। এর প্রেক্ষিতে আদালত এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপোষ না হওয়ায় এবং বাদীপক্ষকে জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালত বাছির উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নেকলেছ আক্তারের জামিন আপোষের স্বার্থে বহাল রাখা হয়। প্রায় ১৮ দিন কারাবাসের পর বাছির উদ্দিন পুনরায় জামিনের আবেদন করলে আদালত ১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহা ও অন্যান্য কারণ বিবেচনায় আদালত আপোষ-মীমাংসার স্বার্থে জামিনের মেয়াদ আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।
বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, নির্মাণাধীন মুরগির খামারটি শুধু তাঁদের দাবি করা ৫.২৫ শতক জমিই নয়, পাশের সরকারি খাস জমির অংশও দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পুকুরের ওপর খামার নির্মাণের ফলে পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং তাঁদের প্রায় ৩৪.৮৫ শতাংশ কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও সরকারি আমিনের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিলকিছ আক্তার। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ থাকলেও বাদীপক্ষের অভিযোগ, বাছির উদ্দিন প্রকাশ্যে দখলকৃত জমি না ছাড়ার কথা বলে বেড়াচ্ছেন এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগের কারণে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বাছির উদ্দিন বলেন, “হারুন অর রশিদ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে।” তবে তাঁর দাবির পক্ষে কোনো দলিল, সাক্ষ্য বা নথি দেখাতে পারেননি। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কোনো মামলা করেননি এবং হারুন অর রশিদ ও তাঁর ছেলে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি বলেন, “তাদের মামলায় আমি ১৮ দিন জেল খেটেছি।”
বিরোধপূর্ণ জমি, দখল ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত হবে।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST