নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যালয় ভবনটির বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ভিতরে গেলে চোখে পড়ে ঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র, এমন ঝুঁকিতে থাকা ভবনটিতে চলছে নিয়মিত পাঠদান। প্রতিনিয়ত ভবন ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। শংকিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শোলাকিয়া, আলোর মেলা এলাকায় সরকারি আদর্শ শিশু বিদ্যালয় অবস্হিত।
ঐতিহ্যবাহীসরকারী আদর্শ শিশু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ২৭ জুলাই ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে,।এটি কিশোরগঞ্জ সদর “মডেল স্কুল” এবং কিশোরগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ২০ জন শিক্ষক ও ১৪৫৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১৮ কক্ষ বিশিষ্ট পুরাত ভবনটিতে চলছে পাঠদান।
ভবনের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় অল্প বৃষ্টিতেই ছাদ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি যা কোমলমতি শিশুদের শরীর ও বই, খাতা ভিজে একাকার। ছাদের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে শিশুদের শরীর ও মেঝেতে। ভবনের ভীমের প্লাস্টার খসে পড়ে বের হয়ে আছে রড যা দীর্ঘদিন যাবত মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্লাসরুমের দরজা জানালা অনেকগুলো ভাঙ্গা দেয়ালের অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল।
আরো উদ্বেগের বিষয় বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভবন ঘেসা পৌরসভার বিশাল দিঘী যা এই জরজীর্ণ দুতলা ভবনটি গ্রাস করতে পারে যে কোন সময়।
বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান আমরা আর কোন মাইলস্টোন স্কুলের মত ঘটনা দেখতে চাইনা। ২০২৩-২৪ সালে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে, আমরা আমাদের শিশুদের শ্রেণীকক্ষে পাঠিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত উদ্বেগের মধ্যে কাটাই। যেকোন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা অভিভাবক বৃন্দ ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর আবেদন করেছি যেন অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প স্থানে পাঠদান এর ব্যবস্থা করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হুসনে আরা ডলি জানান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মহোদয় সরকারি ভাবে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তিনি আরো বলেন আমি একাধিকবার লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করি। এবং বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি দোতলা নতুন ভবণ নির্মাণ হয়েছে সেখানে কিছু শিক্ষার্থীকে স্থানান্তর করি ও পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলার কিছু ক্লাস রুম তালাবদ্ধ করি। নতুন ভবনে সকল শিক্ষার্থীদের স্থান সংকলন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পুরাতন ভবনের নিচ তলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাধ্য হই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিব আলম জানান ১৯৬৭ সালে নির্মিত ভবনটি ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকলন না হওয়ায় আমরা কিছুদিন পাঠদান কার্যক্রম চালিয়েছিলাম। অভিভাবকদের আপত্তির মুখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি টিন শেডনির্মাণের চেষ্টা করছি। অচিরেই আমরা টিন শেডও বিদ্যামান শ্রেণি কক্ষের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পাঠদান কর্মসূচি চলমান রাখবো।