আতাহার আলী মৃধা মাসুদ, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ আবাসিক এলাকার ‘যমুনা-৪’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় সোমবার দুপুরে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাসার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের সময় এক স্কুলছাত্রকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, পিতলগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদির ৪৬ ও পিতলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিরিন আক্তার ৪৪, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মস্থলে ছিলেন। বেলা ১২ থেকে১টা ৩০ এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাদের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় বাসায় ফিরে দম্পতি দেখেন বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা তাদের একমাত্র ছেলে মো. কাউছার ১৫-কে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কাউছার হোসেনপুর সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র।
দ্রুত তাকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি দেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউছারের জ্ঞান ফেরেনি বলে পরিবার জানিয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, ছেলেকে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মাটির ব্যাংক ও দামি কাপড়সহ আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।
হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই বিজয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “বাসার তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কীভাবে ছাত্রটি অচেতন হলো সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক মাসে এই আবাসিক এলাকায় আরও দুবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনাগুলোর পেছনে স্থানীয় কিছু বখাটে জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।
ঘটনার খবর পেয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা হাসপাতালে গিয়ে কাউছারকে দেখে আসেন। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
পুলিশ বাসা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে তদন্ত দল।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।