1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
“অপচয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব: সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নতুন ভিত্তি” খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, খেলা যদি হয় পেশা, তবে পরিবার পাবে ভরসা — প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম জামিনে মুক্তি পেলেও নিজ বাড়িতে যেতে দেয়নি ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন কেন্দুয়ায় ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন তাড়াইলে চার লাখ টাকার অবৈধ রিং, কারেন্ট ও কোনা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস পাকুন্দিয়ায় বিদ্যালয়ের সব কক্ষের ছাদ ধস, খোলা মাঠে চলছে পাঠদান লিবিয়ার ভুমধ্যসাগরে ফের নৌকাডুবি: মৃত্যু ২০,জীবিত উদ্ধার ৪৮ জন হাওরাঞ্চলের লাখো যাত্রীর স্বস্তি: বালিখলা হচ্ছে আধুনিক যাত্রী ছাউনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গভীর রাতে প্রেমিক আটক জায়গা ৭ শতাংশ মামলা ১০, কেন্দুয়ার নওপাড়ায়
শিরোনাম
“অপচয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব: সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নতুন ভিত্তি” খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, খেলা যদি হয় পেশা, তবে পরিবার পাবে ভরসা — প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম জামিনে মুক্তি পেলেও নিজ বাড়িতে যেতে দেয়নি ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন কেন্দুয়ায় ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন তাড়াইলে চার লাখ টাকার অবৈধ রিং, কারেন্ট ও কোনা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস পাকুন্দিয়ায় বিদ্যালয়ের সব কক্ষের ছাদ ধস, খোলা মাঠে চলছে পাঠদান লিবিয়ার ভুমধ্যসাগরে ফের নৌকাডুবি: মৃত্যু ২০,জীবিত উদ্ধার ৪৮ জন হাওরাঞ্চলের লাখো যাত্রীর স্বস্তি: বালিখলা হচ্ছে আধুনিক যাত্রী ছাউনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গভীর রাতে প্রেমিক আটক জায়গা ৭ শতাংশ মামলা ১০, কেন্দুয়ার নওপাড়ায়

“অপচয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব: সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নতুন ভিত্তি”

  • প্রকাশ কাল মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়েছে

একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি শুধু তার রাজস্ব আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা দক্ষতার সঙ্গে জনগণের অর্থ ব্যয় করছে তার ওপর। যে রাষ্ট্র অপচয় কমাতে পারে, দুর্নীতির পথ রুদ্ধ করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নানা সূচকে অগ্রগতি অর্জন করলেও একইসঙ্গে অপচয়, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগও সমান্তরালভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ প্রদান এবং সরকারি অর্থের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল—একটি জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতিটি টাকার হিসাব থাকবে।
নতুন সরকারের প্রথম কয়েক মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—রাষ্ট্রীয় অপচয় কমানোর প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থান নিতে চান। বিশেষ করে ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রথমে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে ব্যয়বহুল প্রস্তাব বাংলাদেশের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা গ্রহণ না করে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সম্প্রচারস্বত্ব অর্জনের উদ্যোগ শুধু অর্থ সাশ্রয়ই করেনি; বরং দেখিয়েছে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।
এ ধরনের পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ জনগণ দেখতে চায় তাদের করের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে। রাষ্ট্র যদি অযৌক্তিক ব্যয় কমাতে সক্ষম হয়, তাহলে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব।
একইভাবে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধ করা, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করা এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল নামকরণ প্রক্রিয়ায় সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক নেতৃত্ব প্রায়ই প্রশাসনিক আচরণকে প্রভাবিত করে।
তবে অপচয় রোধের এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, যেখানে সরকারি ক্রয়, প্রকল্প অনুমোদন, বরাদ্দ বণ্টন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তখনই কার্যকর হয়, যখন তা ব্যক্তি-নির্ভর না হয়ে প্রতিষ্ঠান-নির্ভর হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো বেসরকারি খাতের বর্তমান অবস্থা। একটি দেশের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি উদ্যোগ। রাষ্ট্রীয় খাত কখনোই এককভাবে অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে পারে না। সুতরাং বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এখন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
গত কয়েক বছরে নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা, আইনি জটিলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার কারণে অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করেছেন। নতুন শিল্প স্থাপন, উৎপাদন সম্প্রসারণ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বেড়েছে।
অর্থনীতির ভাষায় বিনিয়োগ মূলত আস্থার ওপর নির্ভর করে। কোনো ব্যবসায়ী তখনই বিনিয়োগ করবেন, যখন তিনি নিশ্চিত হবেন যে তার সম্পদ নিরাপদ, ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ভয়, অনিশ্চয়তা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু।
তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সরকারকে অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক হয়রানি কমানো, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা। প্রযুক্তি মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে, কিন্তু একইসঙ্গে গুজব, চরিত্রহনন, মিথ্যা প্রচারণা এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদান; তবে সেই স্বাধীনতা যেন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়ানোর হাতিয়ার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা, যেখানে একদিকে নাগরিক স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে অপব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণের অর্থ দমন নয়; বরং জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার কাঠামো তৈরি করা।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করা। পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বৃদ্ধি না পেলে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।
অতএব, কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের প্রতিটি খাতকে ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।
নতুন সরকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছে। তারা দেখতে চায় দুর্নীতি কমুক, অপচয় বন্ধ হোক, বিনিয়োগ বাড়ুক এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দৃঢ়তা।
রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি সেই সাশ্রয়কৃত অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। আর সুশাসনের প্রকৃত অর্থই হলো—একদিকে জবাবদিহিতা, অন্যদিকে উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতি নির্মাণ করতে পারে। তাই অপচয় রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি খাত পুনরুদ্ধারের এই তিনটি লক্ষ্যকে সমন্বিত করেই সরকারকে এগোতে হবে। তাহলেই উন্নয়ন হবে অর্থবহ, অর্থনীতি হবে শক্তিশালী এবং জনগণের প্রত্যাশা পাবে বাস্তব রূপ।

লেখক–
রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
(বিশিষ্ট কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
০৯/০৬/২০২৬ ইং

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST