সরকার অরুণ যদুঃ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কামাল খামার ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
সোমবার মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা হয়। এতে লিখত বক্তব্য পাঠ করেন, মাদ্রাসা কমিটির সদস্য পদ থেকে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় ইস্তফা প্রদানকারী ও ভূক্তভোগী আব্দুল মান্নান এবং মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো: মাসুদ আলী।
তারা বলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী প্রায় দেড় বছর ধরে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। খেয়াল খুশি মতো কোন কোন মাসে দু-একদিন তিনি মাদ্রাসায় আসেন। বাকী সময় প্রতিষ্ঠনে না এসেও প্রতি মাসের শেষে পিয়নের মাধ্যমে বাড়িতে হাজিরা খাতা আনিয়ে স্বাক্ষর করে সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।
এছাড়া বাইরে থেকে মাদ্রাসার সভাপতির সঙ্গে যোগসাজস করে মাদ্রাসার পাঁচটি কর্মচারীর পদে নিয়োগ বাণিজ্যের পায়তারা করছেন অধ্য্যক্ষ। ইতোমধ্যে চাকুরি দেয়ার নামে ভূক্তভোগী আব্দুল মান্নান সহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এখন টাকা ফিরত চাইলে ভূক্তভোগীদের উল্টো হয়রানি মূলক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে টাকা ফেরতের জন্য আদালতেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলছে বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অধ্যক্ষ ও সভাপতির দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এসময় ভূক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ভূক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলেকে চাকরি দেওয়া উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার প্রমাণ হিসেবে আমার ডায়েরি খাতায় উনি লিখে লিখে কোন দিন কোন তারিখে কত টাকা নিয়েছেন এবং প্রতিটা তারিখে উনি ওনার স্বাক্ষর দিয়ে টাকাটা গ্রহণ করেছেন। এখন টাকা ফেরত চাওয়ায় তিনি টালবাহনা করছেন।
লিখিত বক্তব্যে মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো: মাসুদ আলী বলেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ তার খয়াল খুশি মতো কোন কোন মাসে দু-একদিন তিনি মাদ্রাসায় আসেন। বাকী সময় প্রতিষ্ঠনে না এসেও প্রতি মাসের শেষে পিয়নের মাধ্যমে বাড়িতে হাজিরা খাতা আনিয়ে স্বাক্ষর করে সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তার নানা অনিয়ম দুনীর্তির কারণে মাদ্রাসাটি ধ্বংসের দাড়প্রান্তে উপনীত হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ লিয়াকত আলীর মতমতের জন্য তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে মাদ্রাসায় তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।